চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ-চোখের হেফাজত সম্পর্কিত হাদিস
চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ? আপনি কি চোখের হেফাজত সম্পর্কিত হাদিস সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন তাহলে আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
আর্টিকেলটিতে আমি চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ, কেন চোখের যিনা হয়, এর
শাস্তি, বাঁচার দোয়া এবং উপায়সহ এ সম্পর্কিত নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার
চেষ্টা করেছি।পেজ সূচিপত্রঃ চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ পোস্টটিতে আমরা যা যা জানবো
- চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ
- চোখের যিনা হয় কি কি কারণে
- চোখের যিনা সিজদায় গেলেও ভাসে
- চোখের যিনার শাস্তি ও এর বিধান
- চোখের যিনার গুনাহ কি মাফ হয়
- চোখের হেফাজত সম্পর্কিত হাদিস নিয়ে আলোচনা
- চোখের গুনাহ থেকে বাঁচার ১০টি উপায়
- চোখের গুনাহ থেকে বাঁচার দোয়া
- চোখের যিনার ফলে মানসিক এবং সামাজিক ক্ষতি
- চোখের যিনা থেকে বাঁচার জন্য মনের শক্তি ও নিয়তের গুরুত্ব
- চোখের যিনার বিরুদ্ধে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষা ও নির্দেশনা
- শেষকথাঃ চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ
চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ
চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ? হ্যাঁ, চোখের জিনা কবিরা গুনাহ। রাসূলুল্লাহ
(সাঃ) বলেছেন, "চোখের যিনা হলো হারাম দিকে তাকানো"। চোখের জিনা বলতে বোঝায়
কোনো অপরিচিত বা হারাম ব্যক্তির দিকে আকর্ষণ বা কামনা নিয়ে তাকানো। এটি
অন্তরের জিনা হিসেবে গণ্য করা হয়। আমরা মুসলিম হিসাবে আমাদের ইসলামের
বিধি-নিষেধ মেনে চলা আবশ্যক। অনেক সময় নফসের তাড়নায় বা শয়তানের প্ররোচনায়
পড়ে চোখের যেনা হয়ে যায়। নিম্নে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা
হয়েছে।
চোখের যিনা হয় কি কি কারণে
ইতিপূর্বেই আমরা জেনেছি চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ কি না এ সম্পর্কে। এখন আমরা
জানবো চোখের যিনা হয় কি কি কারণে। চোখের যিনা বিভিন্ন কারণে
হতে পারে, যেমনঃ
- বেগানা নারী বা পুরুষের দিকে তাকানো।
- অশ্লীল ছবি বা ভিডিও দেখা।
- টিভি বা সিনেমায় অশ্লীল দৃশ্য দেখা।
- হারাম গান-বাজনা বা নাচ দেখা।
- অপরিচিতদের সাথে মেলামেশা করা এবং তাদের দিকে তাকানো
- নফসের তাড়নায় পড়ে চোখের জিনা হতে পারে।
- শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে চোখের জিনা হতে পারে।
- দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ না করলে চোখের জিনা হতে পারে।
চোখের যিনা সিজদায় গেলেও ভাসে
চোখের যিনা সেজদায় গেলেও ভাসে যার অর্থ হলো চোখের দ্বারা করা
পাপ বা ভুল কাজের স্মৃতি সেজদায় গেলেও ভাসে, অর্থাৎ মনের মধ্যে থেকে যায়। এটি
মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, চোখের দ্বারা করা পাপও আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না।
চোখের জেনা বলতে চোখ দিয়ে অন্যের দিকে তাকিয়ে পাপ করা বোঝায়। এটি ইসলামে হারাম
হিসেবে বিবেচিত। তাই আমাদের চোখকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং পাপ থেকে দূরে থাকা উচিত ও
আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তওবা করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুনঃ যেনা করলে কি দোয়া কবুল হয়
চোখের যিনার শাস্তি ও এর বিধান
চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ তা জেনেছি। চোখের যিনা একটি কবিরা গুনাহ, যার
শাস্তি খুবই কঠিন। ইসলামে চোখের যিনার শাস্তি ও এর বিধান সম্পর্কে বিভিন্ন
হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। নিম্নে চোখের যিনার শাস্তি ও এর বিধান উল্লেখ করা হল।
চোখের যিনার ১০টি শাস্তিঃ
- আল্লাহর রহমত থেকে দূরে থাকাঃ চোখের যিনা করা মানে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে থাকা।
- ইমানকে দুর্বল করে দেয়ঃ চোখের যিনা করা ইমানের দুর্বলতার লক্ষণ ও অন্তরে কালিমা লেগে যাওয়ার কারণ।
- আল্লাহর নেক দৃষ্টি থেকে বঞ্চিত হওয়াঃ চোখের জিনা করা আল্লাহর নেক দৃষ্টি থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ।
- দোয়া কবুল না হওয়াঃ চোখের জিনা করলে দোয়া কবুল নাও হতে পারে।
- দুনিয়াতে লোকের অপমাঃ চোখের জিনা করলে দুনিয়াতে লোকের অপমান হতে পারে।
- নেক আমল কবুল না হওয়া ও আমল নষ্ট হওয়াঃ চোখের জিনা করলে নেক আমল কবুল নাও হতে পারে এবং আমল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
- আখিরাতে শাস্তিঃ চোখের জিনার জন্য আখিরাতে শাস্তি ভোগ করতে হতে পারে।
- রিজিক কমে যাওয়ঃ চোখের জিনার কারণে রিজিক কমে যেতে পারে।
- হৃদয় কঠিন হওয়াঃ চোখের জিনার কারণে হৃদয় কঠিন হয়ে যেতে পারে।
- জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াঃ চোখের জিনা করা জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ হতে পারে।
চোখের যিনার ১০টি বিধানঃ
- হারামঃ চোখের জিনা ইসলামে হারাম হিসেবে বিবেচিত।
- গুনাহঃ চোখের জিনা করা একটি বড় গুনাহ।
- নিয়ন্ত্রণ করা ফরজঃ চোখকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং পাপ থেকে দূরে রাখা ফরজ।
- তওবা করা ওয়াজিবঃ চোখের জিনা করে ফেললে তওবা করা ওয়াজিব।
- শাস্তিঃ চোখের জিনার জন্য শাস্তি ভোগ করতে হতে পারে।
- গুনাহ মাফঃ চোখের জিনার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে গুনাহ মাফ হতে পারে।
- নেক আমলঃ চোখকে নিয়ন্ত্রণ করে নেক আমলগুলো (পরহেজগারি অবলম্বন,নজর নিচু রাখা,বেগানা নারী-পুরুষের সাথে মেলামেশা না করা) করা।
- আল্লাহর আযাবের ভয় করাঃ চোখের জিনা করলে আল্লাহর আযাবের ভয় করা উচিত।
- ইমান বৃদ্ধি ও আল্লাহর রহমতঃ চোখকে নিয়ন্ত্রণ করে ইমান বৃদ্ধি করা যায় ও আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়।
- জান্নাতে যাওয়াঃ চোখকে নিয়ন্ত্রণ করে জান্নাতে যাওয়া যায়।
উপরুক্ত এই শাস্তিগুলো থেকে বাঁচতে, আমাদের চোখকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং পাপ থেকে
দূরে থাকা উচিত ও উল্লেখিত বিধানগুলো মেনে চলা উচিত। এই বিধানগুলো মেনে
চললে, আমরা চোখের জিনা থেকে দূরে থাকতে পারব, আল্লাহর রহমত পাব এবং জান্নাতে যেতে
পাড়বো।
চোখের যিনার গুনাহ কি মাফ হয়
চোখের যিনার গুনাহ কি মাফ হয়? ইতিপূর্বেই আমরা জেনেছি চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ কি না এ সম্পর্কে। এখন
আমরা জানবো চোখের যিনার গুনাহ মাফ হয় কি না। হ্যাঁ, চোখের জিনার গুনাহ
মাফ হয় যদি তওবা করা হয় এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়। আল্লাহ তাআলা
বলেন, "তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।"
তবে চোখের জিনার গুনাহ মাফ হওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা চাওয়ার
কিছু শর্ত রয়েছে। যেমন ক্ষমা চাওয়াটা হতে হবে একদম মন থেকে, এমন সংকল্প
করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন পাপ আর না হয় এবং তারপর থেকে আল্লাহর পাঠানো
বিধি নিষেধ মেনে জীবন যাপন করতে হবে।
চোখের হেফাজত সম্পর্কিত হাদিস নিয়ে আলোচনা
ইতিপূর্বেই আমরা জেনেছি চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ কি না। এখন আমরা চোখের হেফাজত সম্পর্কিত হাদিস নিয়ে আলোচনা করবো। চোখের
হেফাজত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) চোখের হেফাজত
সম্পর্কে অনেক হাদিস বলেছেন। যেমন,
হাদিস ১ঃ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "চোখের জিনা হলো দৃষ্টি দেওয়া, কানের জিনা হলো শোনা,
মুখের জিনা হলো কথা বলা, হাতের জিনা হলো স্পর্শ করা, পায়ের জিনা হলো চলা, এবং
অন্তরের জিনা হলো কামনা করা।" (বুখারি ও মুসলিম)
হাদিস ২ঃ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "তোমরা চোখের হেফাজত করো, কারণ চোখের জিনা হলো দৃষ্টি
দেওয়া।" (তিরমিজি)
হাদিস ৩ঃ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "যে ব্যক্তি চোখের হেফাজত করবে, আল্লাহ তার অন্তরকে
হেফাজত করবেন।" (তিরমিজি)
আরও পড়ুনঃ ২০২৬ সালের রমজান কত তারিখ থেকে শুরু হবে
চোখের হেফাজতের গুরুত্বঃ
ইমান রক্ষাঃ চোখের হেফাজত ইমান রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
নফসের হেফাজতঃ চোখের হেফাজত নফসের হেফাজতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সমাজের শান্তিঃ চোখের হেফাজত সমাজের শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
চোখের হেফাজতের উপায়ঃ
দৃষ্টি নত রাখঃ দৃষ্টি নত রাখলে চোখের হেফাজত হয়।
বেগানা নারী বা পুরুষের দিকে না তাকানোঃ বেগানা নারী বা পুরুষের দিকে না তাকালে
চোখের হেফাজত হয়।
আল্লাহর সাহায্য চাওয়াঃ আল্লাহর সাহায্য চাইলে চোখের হেফাজত হয়।
চোখের গুনাহ থেকে বাঁচার ১০টি উপায়
এতক্ষণ জেনেছি চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ, গুনাহ্ কি কি কারনে হয়,
চোখের যিনার গুনাহ থেকে মাফ পাওয়া যায় কিনা। আমরা অনেক সময় শয়তানের
প্ররোচনায় পড়ে চোখের যিনা করে ফেলি, কিন্তু তা বেঁচে থাকার উপায়গুলো
জানা থাকলে আমরা চোখে যিনা করা থেকে বিরত থাকতে পারবো। চলুন জেনে নেওয়া
যাক চোখের গুনাহ থেকে বাঁচার ১০ টি উপায়।
- নিয়তকে পরিষ্কার রাখাঃ সবসময় নিয়তকে পরিষ্কার রাখতে হবে।
- দৃষ্টি নত রাখাঃ দৃষ্টি নত রাখলে চোখের গুনাহ থেকে বাঁচা যায়।
- হারাম দিকে না তাকানোঃ হারাম দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
- আল্লাহর সাহায্য চাওয়াঃ আল্লাহর সাহায্য চাইলে চোখের গুনাহ থেকে বাঁচা যায়।
- নফসকে নিয়ন্ত্রণ করঃ নফসকে নিয়ন্ত্রণ করলে চোখের গুনাহ থেকে বাঁচা যায়।
- সৎ সঙ্গঃ সৎ সঙ্গ অবলম্বন করলে চোখের গুনাহ থেকে বাঁচা যায়।
- সালাত আদায় করাঃ নিয়মিত সালাত আদায় করতে হবে।
- কুরআন পড়াঃ কুরআন পড়া এবং তিলওয়াত করা।
- দোয়া করাঃ নিয়মিত দোয়া করতে হবে।
- আল্লাহর ভয় রাখাঃ সবসময় আল্লাহর ভয় রাখতে হবে।
চোখের গুনাহ থেকে বাঁচার দোয়া
ইতিপূর্বেই আমরা জেনেছি চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ কি না, গুনাহ্ কি কি কারনে হয়, চোখের যিনার গুনাহ থেকে মাফ পাওয়া যায় কিনা
এবং চোখের গুনাহ থেকে বাঁচার উপায় সমূহ। চোখের গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য
দোয়া-
উচ্চারণঃ "আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন শাররি বাসরি, ওয়া আউযুবিকা মিন
শাররি সাম্বি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররি কালবি"
অর্থঃ "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার চোখের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই,
আমার কানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই, এবং আমার অন্তরের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।"
এছাড়াও, আপনি এই দোয়াটিও পড়তে পারেন-
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মাহফাজনি মিন শাররি ফিতনাতি ওয়া মিন শাররি হারামি।
অর্থঃ হে আল্লাহ, আমাকে ফিতনা ও হারাম থেকে রক্ষা কর।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে চোখের গুনাহ থেকে বাঁচার তাওফিক দান করুন। আমিন।
চোখের যিনার ফলে মানসিক এবং সামাজিক ক্ষতি
আমরা অনেক সময় শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে চোখের যিনা করে ফেলি, এতক্ষণ
আমরা জেনেছি চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ কি না, গুনাহ্ কি কি কারনে হয়,
চোখের যিনার গুনাহ থেকে মাফ পাওয়া যায় কিনা এবং চোখের গুনাহ থেকে
বাঁচার দোয়া ও উপায় সমূহ। এখন জানবো
চোখের যিনার ফলে কি কি মানসিক এবং সামাজিক ক্ষতিসাধিত হয়। চোখের জিনা
একটি কবিরা গুনাহ, যা মানসিক ও সামাজিকভাবে অনেক ক্ষতি করে।
- অন্তর কঠিন হওয়াঃ চোখের জিনার ফলে অন্তর কঠিন হয় এবং মানুষের মন খারাপ হয়।
- মানসিক চাপঃ চোখের জিনার ফলে মানসিক চাপ বাড়ে এবং মানুষের মন অশান্ত হয়।
- আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়াঃ চোখের জিনা আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে।
- আল্লাহর সাথে সম্পর্কের বিচ্ছিন্নতাঃ চোখের জিনা আল্লাহর সাথে সম্পর্ককে দুর্বল করতে পারে। ফলে মন অশান্ত হয়ে থাকে।
- ইমান দুর্বল হওয়াঃ চোখের জিনার ফলে ইমান দুর্বল হয় এবং মানুষের আখিরাত নষ্ট হয়। যার ফলে দোয়া কবুল হয় না, তখন মানুষ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
- দুশ্চিন্তাঃ চোখের জিনার ফলে দুশ্চিন্তা বাড়ে এবং মানুষের মন খারাপ হয়।
চোখের যিনার ফলে সামাজিক ক্ষতিঃ
- সমাজে অশান্তিঃ চোখের জিনার ফলে সমাজে অশান্তি ছড়ায় এবং মানুষের মধ্যে ঝগড়া হয়।
- পরিবারের অশান্তিঃ চোখের জিনার ফলে পরিবারের অশান্তি হয় এবং মানুষের মধ্যে ঝগড়া হয়।
- সম্মান নষ্ট হওয়াঃ চোখের জিনার ফলে সম্মান নষ্ট হয় এবং মানুষের ইজ্জত থাকে না।
- সম্পর্কের বিচ্ছিন্নতাঃ চোখের জিনা সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করতে পারে।
- বিবাহিত জীবনে সমস্যাঃ চোখের জিনা বিবাহিত জীবনে সমস্যা সৃষ্টি হয়।
চোখের যিনা থেকে বাঁচার জন্য মনের শক্তি ও নিয়তের গুরুত্ব
চোখের যিনা থেকে বাঁচার জন্য মনের শক্তি ও নিয়তের গুরুত্ব
অপরিহার্য। এখন জানবো চোখের যিনা থেকে বাঁচার জন্য মনের শক্তি ও নিয়তের গুরুত্ব
কতটা অত্যাবশ্যক।
যিনা থেকে বাঁচার জন্য মনের শক্তিঃ
- নিয়তকে পরিষ্কার রাখাঃ সবসময় নিয়তকে পরিষ্কার রাখতে হবে।
- আল্লাহর ভয় রাখাঃ সবসময় আল্লাহর ভয় রাখতে হবে।
- সালাত আদায় করাঃ নিয়মিত সালাত আদায় করতে হবে।
- কুরআন পড়াঃ কুরআন পড়া এবং তিলওয়াত করা।
- দোয়া করাঃ নিয়মিত দোয়া করতে হবে।
- সৎ সঙ্গঃ সৎ সঙ্গ করতে হবে।
- আল্লাহর সাহায্য চাওয়াঃ আল্লাহর সাহায্য চাইলে মনের শক্তি বাড়ে।
- নফসকে নিয়ন্ত্রণ করাঃ নফসকে নিয়ন্ত্রণ করলে মনের শক্তি বাড়ে।
- আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখাঃ আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে চোখের জিনা থেকে বাঁচতে হবে।
- দৃষ্টি নত রাখাঃ দৃষ্টি নত রাখলে চোখের জিনা থেকে বাঁচা যায়।
- বেগানা নারী বা পুরুষের দিকে না তাকানোঃ বেগানা নারী বা পুরুষের দিকে না তাকালে চোখের জিনা থেকে বাঁচা যায়।
- নফসকে নিয়ন্ত্রণ করাঃ নফসকে নিয়ন্ত্রণ করলে চোখের জিনা থেকে বাঁচা যায়।
- আল্লাহর সাহায্য চাওয়াঃ আল্লাহর সাহায্য চাইলে চোখের জিনা থেকে বাঁচা যায়।
যিনা থেকে বাঁচার জন্য নিয়তের গুরুত্বঃ
- আল্লাহর সন্তুষ্টিঃ নিয়ত পরিষ্কার হলে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।
- মনের শক্তিঃ নিয়ত পরিষ্কার হলে, মনের শক্তি বাড়ে।
- চোখের হেফাজতঃ নিয়ত পরিষ্কার হলে, চোখের হেফাজত করা সহজ হয়।
- আল্লাহর সাহায্যঃ নিয়ত পরিষ্কার হলে, আল্লাহ সাহায্য করেন।
- চোখের জিনা থেকে বাঁচাঃ নিয়ত ঠিক থাকলে চোখের জিনা থেকে বাঁচা যায়।
- নেক আমলঃ নিয়ত ঠিক থাকলে নেক আমল করা যায়।
চোখের যিনার বিরুদ্ধে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষা ও নির্দেশনা
ইসলাম চোখের জিনাকে একটি কবিরা গুনাহ হিসেবে বিবেচনা করে। চোখের জিনা হলো বেগানা নারী বা পুরুষের দিকে তাকানো, যা ইসলামে নিষিদ্ধ। এখন আমরা চোখের জিনার বিরুদ্ধে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষা ও নির্দেশনা সম্পর্কে ব্বিস্তারিত জানবো।
ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গিঃ
- কবিরা গুনাহঃ চোখের জিনা একটি কবিরা গুনাহ, যা আল্লাহর কাছে অপরাধ।
- হারামঃ চোখের জিনা ইসলামে হারাম।
- নিষিদ্ধঃ চোখের জিনা ইসলামে নিষিদ্ধ।
- শাস্তিঃ চোখের জিনার শাস্তি জাহান্নাম।
- আল্লাহর গজবঃ চোখের জিনার কারণে আল্লাহর গজব নেমে আসে।
- আল্লাহর অসন্তুষ্টিঃ চোখের জিনা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ।
ইসলামিক শিক্ষাঃ
- দৃষ্টি নত রাখাঃ দৃষ্টি নত রাখা ইসলামিক শিক্ষা।
- পর্দা করাঃ পর্দা করা জরুরি, বিশেষ করে নারীদের জন্য।
- বেগানা নারী বা পুরুষের দিকে না তাকানোঃ বেগানা নারী বা পুরুষের দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
- নফসকে নিয়ন্ত্রণ করাঃ নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা ইসলামিক শিক্ষা।
- আল্লাহর সাহায্য চাওয়াঃ সর্বদা আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে।
ইসলামিক নির্দেশনাঃ
- দৃষ্টি নত রাখাঃ দৃষ্টি নত রাখার জন্য ইসলামিক নির্দেশনা।
- বেগানা নারী বা পুরুষের দিকে না তাকানোঃ বেগানা নারী বা পুরুষের দিকে না তাকানোর জন্য ইসলামিক নির্দেশনা।
- নফসকে নিয়ন্ত্রণ করাঃ নফসকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ইসলামিক নির্দেশনা।
- তওবা করাঃ চোখের জিনা করলে তওবা করতে হবে।
- ক্ষমা চাওয়ঃ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
- ভবিষ্যতে না করাঃ ভবিষ্যতে আর না করার প্রতিজ্ঞা করতে হবে।
শেষকথাঃ চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ
চোখের যিনা কি কবিরা গুনাহ এ নিয়ে উপরে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও চোখের যিনা হয় কি কি কারনে, এর শাস্তি ও বিধান, চোখের হেফাজত, বাঁচার দোয়া এবং উপায়, মানসিক এবং সামাজিক ক্ষতি, চোখের জেনা থেকে বাঁচতে মনের শক্তি ও নিয়তের গুরুত্ব এবং পরিশেষে এর বিরুদ্ধে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষা ও নির্দেশনা নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ আরবি মাসের ক্যালেন্ডার ২০২৬
আশা করি আপনি পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়েছেন। যদি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে ফলো করে দেবেন এবং আপনার মতামতটি কমেন্টে জানাবেন। আর্টিকেলটি আপনার পরিচিতদের এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।
.webp)

ঐশী; আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url