শবে কদর কত তারিখে 2026

আপনি কি শবে কদর কত তারিখে 2026 সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? আপনি যদি শবে কদর কত তারিখে 2026 এ অনুষ্ঠিত হবে তা জানতে আগ্রহী থাকেন তাহলে আর্টিকেলটি আপনার জন্যই।

শবে-কদর-কত-তারিখে-2026প্রিয় পাঠক আজ আমি আপনাদের আমার আর্টিকেলটির মাধ্যমে এ বিষয় সম্পর্কে জানানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আশা করি আপনি আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

পেজ সূচিপত্রঃ শবে কদর কত তারিখে 2026

শবে কদর কত তারিখে 2026

শবে কদর কত তারিখে 2026 তা জানতে চান? প্রিয় পাঠক তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। মনোযোগ সহকারে আর্টিকেলটি পড়ুন, আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি 2026 সালের কত তারিখে শবে কদর তা সহ শবে কদরের গুরুত্বপূর্ণ আরো নানা বিষয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

শবে কদর হলো রমজান মাসের একটি বিশেষ রাত, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই রাতে কোরআন নাজিল হয়েছে এবং আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের দরজা খোলা থাকে। শবে কদর হলো ইসলামের অন্যতম মহিমান্বিত রাত, যা মুসলিম বিশ্বের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এই রাতটি রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে একটি, বিশেষ করে 21, 23, 25, 27, 29 রমজানের রাতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

শবে কদরের রাতে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআন নাজিল করেন। এই রাতে ফেরেশতারা রহমত, কল্যাণ ও বরকত নিয়ে পৃথিবীতে নেমে আসেন। শবে কদরের রাতে ইবাদত-বন্দেগি করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন এবং তার ভাগ্য নির্ধারণ করেন। শবে কদরের রাতটি মুসলিম বিশ্বের জন্য এক মহা উৎসবের রাত। এই রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন। 

শবে কদরের রাতে ইবাদত করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন। শবে কদরের রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দার মনের আশা পূরণ করেন। শবে কদরের রাতে ইবাদত করলে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে জান্নাত দান করেন। তাই মুসলিম জাতি মুখিয়ে থাকে এই দিনটির জন্য। তাই আমি শবে কদর কত তারিখ 2026 তা জানানোর চেষ্টা করেছি।

শবে কদর 2026 এর সম্ভাব্য তারিখ হলো রমজান মাসের শেষ 10 রাতের মধ্যে, বিশেষ করে 21, 23, 25, 27, 29 তারিখের রাতে। অধিকাংশের মতে, 27 রমজান শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যেহেতু চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে রমজান শুরু হয়, তাই নির্দিষ্ট করে সঠিক তারিখটি বলা যায় না। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী 2026 সালের রমজান মাস শুরু হতে পারে 19 ফেব্রুয়ারি, সে অনুযায়ী 27 শে রমজান দিনটি হবে 17 মার্চ, মঙ্গলবার।

শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য

শবে কদর কত তারিখে 2026 তা জানলাম এখন আমরা জানব শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য। শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য বলে শেষ করা যাবে না। শবে কদর হলো রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে একটি রাত, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই রাতের ফজিলত ও তাৎপর্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শবে কদরের রাতে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআন নাজিল করেন, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই রাতে ফেরেশতারা রহমত, কল্যাণ ও বরকত নিয়ে পৃথিবীতে নেমে আসেন। শবে কদরের রাতে ইবাদত-বন্দেগি করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন এবং তার ভাগ্য নির্ধারণ করেন। শবে কদরের রাতটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও অন্ধকারমুক্ত থাকে। আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ থাকে।

মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হয়। ইবাদতের পর আত্মিক প্রশান্তি অনুভূত হয়। কোনো মুমিনকে স্বপ্নে শবে কদরের সন্ধান দেওয়া হতে পারে। ওই রাতে হালকা বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে। পরদিন সকালে সূর্য মৃদু আলোর সাথে উদিত হয়। শবে কদরের রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া, কোরআন তেলাওয়াত করা, দোয়া-দরুদ পড়া, গরীব ও অসহায়দের সাহায্য করা উত্তম।

একটি ঘটনার মাধ্যমে বিষয়টি আরো সুন্দরভাবে বোঝা যাবে, আমাদের প্রিয় নবী ও রাসুল মোহাম্মদ সাঃ তার উম্মতদের কথা চিন্তা করে মহান আল্লাহ তায়ালাকে জিজ্ঞেস করেন, "হে মহান আল্লাহ তায়ালা, আগেকার নবীরা এবং তাদের সাহাবীরা অনেক বছর আয়ু পেয়েছিল, কেউ দুই হাজার বছর, কেউবা এক হাজার বছর এরকম করে আয়ু পেয়েছে। কিন্তু আমার উম্মতেরা ৬০-৭০ বছর আয়ু পেয়েছে। তাহলে তারা কিভাবে পূর্বের মানুষদের সমান আপনার ইবাদত করতে পারবে?"

প্রতিউত্তরে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন," হ্যাঁ, তাদের আয়ু বেশি ছিল কিন্তু তাদের জন্য কদর ছিল না, তোমার উম্মতের জন্য আমি লাইলাতুল কদরের মত একটি মহামান্বিত রাত দিয়েছি, যা হাজার মাস ইবাদত করার থেকেও উত্তম রাত"। এখান থেকেই বোঝা যায় শবে কদরের ফজীলত ও তাৎপর্য কতটা।

শবে কদরের রাতের বিশেষ দোয়া

শবে কদরের রাতে বেশি বেশি ইবাদত ও দোয়া করতে হয়। তবে শবে কদরের রাতের একটি বিশেষ দোয়া রয়েছে।
শবে কদরের রাতের একটি বিশেষ দোয়াঃ "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নি"।
অর্থঃ "হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাকে পছন্দ কর, আমাকে ক্ষমা কর।"

শবে কদরের রাতে আমল ও ইবাদত 

শবে কদরের রাতে বেশি বেশি আমল ও ইবাদত করতে হয়। এ রাতটি মহিমান্বিত রাত হওয়ায় এ রাতে বেশি বেশি আমল ও ইবাদত করার মাধ্যমে বেশি বেশি সওয়াব অর্জন করা যায়। শবে-কদর-কত-তারিখে-2026
নিম্নে শবে কদরের রাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল ও ইবাদত তুলে ধরা হলো-
  1. নামাজ আদায় করা।
  2. কোরআন তেলাওয়াত করা-সূরা কদর, সুরা ইয়াসিন, সুরা রহমান, সুরা মুলক, সূরা বাকারা তেলাওয়াত করা ভালো। 
  3. বেশি বেশি দোয়া করা, বিশেষ করে "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন"।
  4. ইস্তেগফার করা,গুনাহ না থেকে মাফ চাওয়া।
  5. গরীব দুঃখীদের দান সদকা করা। 
  6. বেশি বেশি জিকির করা। 
  7. রাতের শেষভাগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া। 
  8. কবর জিয়ারত করা, মৃতদের জন্য দোয়া করা।
  9. মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। 
  10. দরুদ শরীফ পড়া।
  11. আল্লাহর রহমত কামনা করা,বরকত চাওয়া।
  12. ইবনে মাজাহ্ পড়া, হাদিসের কিতাব পড়া। 
  13. রাত জেগে ইবাদত করা, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। 
  14. নফল নামাজ আদায় করা। 
  15. সূরা ইখলাস পড়া, আয়াতুল কুরসি পড়া।

শবে কদর 2026 এর সম্ভাব্য তারিখ

শবে কদর 2026 এর সম্ভাব্য তারিখ হলো রমজান মাসের শেষ 10 রাতের মধ্যে, বিশেষ করে 21, 23, 25, 27, 29 তারিখের রাতে। অধিকাংশের মতে, 27 রমজান শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে নির্দিষ্ট তারিখ জানা যায় না, কারণ রমজান মাসের তারিখ নির্ভর করে চাঁদের দর্শনের উপর। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী 2026 সালের রমজান মাস শুরু হতে পারে 19 ফেব্রুয়ারি, সে অনুযায়ী শবে কদর 2026 এর সম্ভাব্য তারিখ গুলো হল-
  • 11 মার্চ 2026 (21 রমজান)
  • 13 মার্চ 2026 (23 রমজান) 
  • 15 মার্চ 2026 (25 রমজান)
  • 17 মার্চ 2026 (27 রমজান)
  • 19 মার্চ 2026 (29 রমজান)

শবে কদর 2026 মসজিদে ইবতেকাফ

শবে কদরে মসজিদে ইবতেকাফ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। ইবতেকাফ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদে অবস্থান করা, ইবাদত-বন্দেগি করা। ইবতেকাফ আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়। যে ব্যক্তি ইবতেকাফের নিয়ত করে মসজিদে গিয়ে মসজিদে অবস্থান করে ইবাদত বন্দেগী করে, আল্লাহ তা'আলা তার গুনাহ মাফ করে দেন, দোয়া কবুল করেন। 

শবে কদরের রাতে ইবতেকাফের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়, ফলে এর ফজিলত অনেক। শবে কদরে ইবতেকাফ করলে আল্লাহর রহমতের দরজা খোলা হয়। আল্লাহ তায়ালা ইবতেকাফকারীকে ইবলিশ শয়তান থেকে নিরাপদে রাখে, আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়, তার ওপর রহমত বর্ষিত হয় এবং জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়।

শবে কদরের ইতিহাস ও ঘটনাবলী

শবে কদর চেনার ৮ টি আলামত

শবে কদর সঠিকভাবে জানা ও চেনার জন্য তার কিছু আলামত জানা প্রয়োজন। নিম্নে শবে কদর চেনার ৮ টি আলামত উল্লেখ করা হলো-
  1. শবে কদরের রাতটি খুবই শান্তিপূর্ণ ও অন্ধকারমুক্ত থাকে।
  2. আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ থাকে, না গরম না ঠাণ্ডা।
  3. শবে কদরের রাতে মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হয়।
  4. শবে কদরের রাতে ইবাদত করলে আত্মিক প্রশান্তি অনুভূত হয়।
  5. শবে কদরের রাতে কোনো মুমিনকে স্বপ্নে শবে কদরের সন্ধান দেওয়া হতে পারে।
  6. শবে কদরের রাতে হালকা বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে।
  7. শবে কদরের পরদিন সকালে সূর্য মৃদু আলোর সাথে উদিত হয়।
  8. শবে কদরের রাতে চাঁদ উজ্জ্বল থাকে।

শবে কদর 2026 দান-সদকার ১০ টি ফজিলত

সারা বছরই দান সদকার ফজিলত অনেক। তবে রমজান মাস যেহেতু বছরের মধ্যে উত্তম মাস তাই এ মাসে দান সদকার সওয়াব বেশি, বিশেষ করে মহিমান্বিত রাত শবে কদরের রাতে। আমরাই তো পূর্বেই শবে কদর কত তারিখে তা জেনেছি এখন শবে কদর 2026 দান সদকার ১০টি ফজিলত জানবো। নিম্নে তা উপস্থাপন করা হলো-
  1. শবে কদরের রাতে গরিবদের সাহায্য করলে ৮৩ বছরের দানের সমান সওয়াব পাওয়া যাবে।
  2. দান-সদকা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।
  3. দান-সদকা গুনাহ মোচনের সুযোগ।
  4. দান-সদকা আত্মশুদ্ধির মাধ্যমও।
  5. আল্লাহ তাআলা দানশীল ব্যক্তিকে ভালোবাসেন এবং তার রহমত বর্ষণ করেন।
  6. শবে কদরের রাতে দান-সদকা করলে সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব পাওয়া যায়।
  7. দান-সদকা করলে মনের প্রশান্তি লাভ হয়।
  8. দান-সদকা করলে আল্লাহ তাআলা রিজিক বৃদ্ধি করে দেন।
  9. দান-সদকা করলে আল্লাহর কাছে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
  10. শবে কদরের রাতে দান-সদকা করলে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়।
শবে-কদর-কত-তারিখে-2026

শবে কদরের রাতে আল্লাহর জিকির ও কোরআন তেলাওয়াত

শবে কদরের রাতে আল্লাহর জিকির ও কোরআন তেলাওয়াত করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়। শবে কদরের রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আমরা যেসব জিকির ও কোরআন তেলোয়াত করতে পারি তার নিচে উল্লেখ করা হলো।
শবে কদরের দশটি জিকির নিচে দেওয়া হলোঃ
  1. আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নিঃ এই দোয়া পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন।
  2. সুবহানাল্লাহঃ এই জিকির পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।
  3. আলহামদুলিল্লাহঃ এই জিকির পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার নেকি বৃদ্ধি করে দেন।
  4. আল্লাহু আকবারঃ এই জিকির পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন।
  5. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহঃ এই জিকির পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার ঈমান বৃদ্ধি করে দেন।
  6. আস্তাগফিরুল্লাহঃ এই জিকির পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন।
  7. ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমঃ এই জিকির পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করে দেন।
  8. ইয়া রাহমানু ইয়া রাহিমঃ এই জিকির পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি রহমত বর্ষণ করেন।
  9. ইয়া মালিকু ইয়া কুদ্দুসঃ এই জিকির পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।
  10. ইয়া সালামু ইয়া মুমিনঃ এই জিকির পড়লে আল্লাহ তাঐলা বান্দার আত্মার শান্তি দান করেন।
শবে কদরের দশটি কুরআন তেলাওয়াত নিচে দেওয়া হলোঃ
  1. সূরা কদরঃ এই সূরা পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন।
  2. সূরা ইয়াসিনঃ এই সূরা পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।
  3. সূরা রহমানঃ এই সূরা পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার নেকি বৃদ্ধি করে দেন।
  4. সূরা মুলকঃ এই সূরা পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন।
  5. সূরা বাকারাঃ এই সূরা পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার ঈমান বৃদ্ধি করে দেন।
  6. সূরা ফাতিহাঃ এই সূরা পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করে দেন।
  7. সূরা আল-ইকলাসঃ এই সূরা পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার তাওহিদ বৃদ্ধি করে দেন।
  8. সূরা আল-ফালাকঃ এই সূরা পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন।
  9. সূরা আন-নাসঃ এই সূরা পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন।
  10. সূরা আয়াতুল কুরসিঃ এই সূরা পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।
এই জিকির ও কুরআন তেলাওয়াতগুলো শবে কদরের রাতে বেশি বেশি পড়লে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।

শবে কদর 2026 তারাবির নামাজের নিয়ম

তারাবির নামাজ এশার নামাজের পরে পড়তে হয়। রমজানের অন্যান্য দিনগুলোর মতোই শবে কদরের রাতেরও তারাবির নামাজের নিয়ম একই। তার জন্য প্রথমেই নিয়ত করতে হবে।
 
তারাবির নামাজের নিয়তঃ 
উচ্চারণঃ "নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা'আলা রাকাতাই সালাতি তারাবিহ নাফল, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার"।
অর্থঃ আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারাবির দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করছি, আল্লাহু আকবার।

তারাবির নামাজের নিয়মঃ
  • তারাবির নামাজ ৮ রাকাত, তবে ২০ রাকাতও পড়া যায়।
  • দুই রাকাত করে নামাজ পড়তে হবে।
  • প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পরে যে কোনো সূরা পড়া যাবে।
  • প্রতি চার রাকাতের পরে একটু বসে দোয়া-দরুদ পড়া উত্তম।
  • তারাবির নামাজ শেষে বিতরের নামাজ পড়তে হবে।  
তারাবির নামাজের দোয়াঃ
উচ্চারণঃ "সুবহানা ধিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি সুবহানা ধিল ইজ্জাতি ওয়াল আজমাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারুতি সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যুল্লাজি লা ইনামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রুহি লিল্লাহি তাবারাকা ওয়া তায়ালা রাব্বিল মালাইকাতি ওয়ার রুহি"।
অর্থঃ "আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, যিনি সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী, যিনি মহিমান্বিত, যিনি শক্তিশালী, যিনি গর্বিত, যিনি প্রভাবশালী, যিনি জীবন্ত, যিনি কখনো মরবেন না, যিনি চিরস্থায়ী, যিনি পবিত্র, যিনি আমাদের রব, যিনি ফেরেশতাদের রব, যিনি রুহুল কুদসের রব, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা, যিনি ফেরেশতাদের রব, যিনি রুহুল কুদসের রব''।

এছাড়াও তারাবির নামাজের পরে এই দোয়াও পড়া যায়,
ক্ষমার দোয়াঃ "আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নি"
অর্থঃ হে আল্লাহ, তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতে ভালোবাসো, তাই আমাকে ক্ষমা করো।
জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়াঃ "আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনান্নার"।
অর্থঃ হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।
অন্যান্য দোয়াঃ যেকোনো ব্যক্তিগত দোয়া, যা আল্লাহর কাছে চাওয়া যায়, যেমন—স্বাস্থ্য, রিজিক, উত্তম মৃত্যু, মা-বাপের জন্য দোয়া ইত্যাদি।

2026 সালের ইসলামিক গুরুত্বপূর্ণ তারিখ সমূহ

আর্টিকেলটির এই অংশটিতে আমরা জানব 2026 সালের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ সমূহ। আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে নিম্নে আমি তালিকা আকারে সুন্দর করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলাম।
দিবস/ উৎসবের নাম আরবি তারিখ বার ইংরেজি তারিখ
শবে মেরাজ ২৭ রজব ১৪৪৭ শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
শবে বরাত ১৫ শাবান ১৪৪৭ মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রমজান শুরু ০১ রমজান ১৪৪৭ বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
লাইলাতুল কদর ২৭ রমজান ১৪৪৭ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬
ঈদুল ফিতর ০১ শাউয়াল ১৪৪৭ শুক্রবার ২০ মার্চ ২০২৬
হজ্জ (আরাফাহ দিবস) ০৯ জিলহজ্জ ১৪৪৭ মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২৬
ঈদুল আযহা ১০ জিলহজ্জ ১৪৪৭ বুধবার ২৭ মে ২০২৬
হিজরি নববর্ষ (১৪৪৮) ০১ মুহাররাম ১৪৪৮ মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬
আশুরা ১০ মুহাররাম ১৪৪৮ বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬
ঈদে মিলাদুন্নবি ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম ১১ রবিউস সানি বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২৬

শেষকথাঃ শবে কদর কত তারিখে 2026

প্রিয় পাঠক আমি আমার আর্টিকেলটিতে শবে কদর কত তারিখে 2026 এ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। এছাড়াও আমার আর্টিকেলটিতে শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য, আমল ও ইবাদত, শবে কদর চেনার আলামত, শবে কদরের রাতে আল্লাহর জিকির ও কোরআন তেলাওয়াত, তারাবির নামাজের নিয়ম সবকিছু আলোচনা করেছি।

আশা করি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন। যদি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে আপনি আপনার মতামতটি কমেন্টে জানাবেন এবং আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ঐশী; আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url