যেনা করলে কি দোয়া কবুল হয়

যেনা করলে কি দোয়া কবুল হয়? এটা আমাদের সবারই জানার আগ্রহ থাকে কেননা আমরা মুসলিম জাতিরা শয়তানের প্ররোচনায় বিভিন্ন সময় নানা পাপ কাজ করে ফেলি।

যেনা-করলে-কি-দোয়া-কবুল-হয়

এমনকি যেনার মত পাপ কাজেও লিপ্ত হয়ে পড়ি। নিম্নে যেনা করলে কি দোয়া কবুল হয় কি না এটা সহ বিস্তারিত বিষয় আসয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

পেজ সূচিপত্রঃ যেনা করলে কি দোয়া কবুল হয় পোস্টটিতে আমরা যা যা জানবো

যেনা করলে কি দোয়া কবুল হয়

যেনা করলে কি দোয়া কবুল হয়? তা জানতে চান। আমরা যেহেতু মুসলিম জাতি, আমরা অনেক সময় শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে নানা ধরনের পাপ কাজ করে ফেলি। এমনকি যেনার মত ঘৃণিত কাজও। যেনা হলো ইসলামে নিষিদ্ধ একটি কাজ যা মানুষের আচরণকে নষ্ট করে এবং সমাজে অশান্তি ছড়ায়। যেনা করলে মানুষের অন্তর কঠিন হয়ে যায় এবং আল্লাহর সাথে তার সম্পর্ক নষ্ট হয়। এই অবস্থায় তার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

যেনার ফলে মানুষের ইমান দুর্বল হয় এবং সে অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়। যেনা করলে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে থাকতে হয় এবং তার শাস্তি ভোগ করতে হয়। যেনা করলে মানুষের সম্মান নষ্ট হয় এবং সমাজে তার ইজ্জত থাকে না। নিম্নে আমরা যেনার ফলে দোয়া কবুল না হওয়ার কারণ, যেনার শাস্তি, মাফ পাওয়ার উপায়, যেনা থেকে বাঁচার দোয়া ও উপায় আরো নানা বিষয়ে বিস্তারিত জানবো।

যেনার ফলে দোয়া কবুল না হওয়ার কারণ

আমরা যেহেতু মুসলিম, সেজন্য আমাদের ইসলামের নানা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান রাখা আবশ্যক। এখন জানব যেনার ফলে দোয়া কবুল না হওয়ার কারণ। নিম্নে যেনার ফলে দোয়া কবুল হওয়ার 10 টি কারণ উল্লেখ করা হলো।
  1. যেনার ফলে ইমান দুর্বল হয়ে যায় বলে দোয়া কবুল হয় না 
  2. গুনাহের কারণে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে যাওয়া 
  3. যেনার কারণে অন্তর কঠিন হয়ে যাওয়া 
  4. যেনার ফলে আল্লাহর নৈকট্য থেকে দূরে থাকতে হয় 
  5. আল্লাহর সাথে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া 
  6. আল্লাহর নাফরমানি করা 
  7. দোয়ার শর্ত পূরণ না হওয়া 
  8. আল্লাহর অসন্তুষ্টি 
  9. আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা
  10. দোয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত হারাম হওয়া

কোন কোন কারণে দোয়া কবুল হয় না

এর আগে জেনেছি যেনার ফলে দোয়া কবুল না হওয়ার কারণ সম্পর্কে, এখন জানব আরও কোন কোন কারণে দোয়া কবুল হয় না। নিম্নে এরূপ ৮ টি কারণ উল্লেখ করা হলো।
  1. গুনাহ করাঃ যেনা, সুদ, গীবত ইত্যাদি গোনা করলে দোয়া কবুল হয় না।
  2. হারাম খাওয়াঃ হারাম উপায়ে অর্জিত অর্থ খেলে দোয়া কবুল হয় না
  3. নিয়ত খারাপ হওয়াঃ দোয়ার নিয়ত খারাপ হলে বা অন্যকে দেখানোর জন্য দোয়া করলে দোয়া কবুল হয় না।
  4. নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতাঃ আল্লাহর নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা করলে দোয়া কবুল হয় না 
  5. দোয়ায় শিরক করাঃ দোয়ায় শিরক করলে দোয়া কবুল হয় না। 
  6. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়াঃ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হলে দোয়া কবুল হয় না। 
  7. অধৈর্য হওয়াঃ দোয়ার ফলাফলের জন্য অধৈর্য হইলে দোয়া কবুল হয় না। 
  8. গাফিলতি করাঃ দোয়া করার সময় গাফিলতি করলে বা অন্যদিকে মনোযোগ দিলে দোয়া কবুল হয় না।

গোপনে যেনা করলে কি হয়

গোপনে যেনা করা একটি বড় গুনাহ, যা ইসলামে হারাম করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যেই জেনেছি যেনা করলে কি দোয়া কবুল হয় কিনা। এখন জানবো গোপনে যেনা করলে কি হয়। গোপনে যেনা করলে এর কিছু ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। যেমন-
  • গোপনে যেনা করলে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে থাকতে হয়।
  • গোপনে যেনা করলে ইমান দুর্বল হয়ে যায় এবং অন্তর কঠিন হয়ে যায়।
  • গোপনে যেনা করলে সম্মান নষ্ট হয় এবং সমাজে ইজ্জত থাকে না।
  • আল্লাহর আযাব নেমে আসতে পারে এবং ইহকাল ও পরকালে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।
  • রিজিক কমে যায় এবং বরকত নষ্ট হয়ে যায়।
  • গোপনে যেনা করলে নফসের তাড়নায় পড়তে হয়, যা অন্যায় কাজে লিপ্ত করে।
  • গোপনে যেনা করলে দোয়া কবুল হয় না।
  • আল্লাহর নৈকট্য থেকে দূরে থাকতে হয়। 
  • অন্তরে রোগ সৃষ্টি হয় এবং মানুষের মধ্যে অশান্তি ছড়ায়।

কোন তিন ব্যক্তির দোয়া কবুল হয় না

এখন আমরা জানবো কোন তিন ব্যক্তির দোয়া কবুল হয় না। যে তিন ব্যক্তির দোয়া কবুল হয় না-
  1. জালিমের দোয়াঃ জালিমের দোয়া কবুল হয় না, কারণ সে অন্যায়ভাবে অন্যের উপর অত্যাচার করে।
  2. খিয়ানতকারীর দোয়াঃ খিয়ানতকারীর দোয়া কবুল হয় না, কারণ সে আমানতের খিয়ানত করে।
  3. যে ব্যক্তি হারাম খায় ও গুনাহে লিপ্তঃ যে ব্যক্তি হারাম উপায়ে উপার্জিত অর্থ খায়, গুনাহে লিপ্ত থাকে এবং তওবা করে না, তার দোয়া কবুল হয় না।

প্রেম করলে কি দোয়া কবুল হয়

প্রেম করা যদি শরীয়ত সম্মত হয়, অর্থাৎ বিবাহের উদ্দেশ্যে হয় এবং শরীয়তের নিয়ম মেনে হয়, তাহলে দোয়া কবুল হতে পারে। কিন্তু যদি প্রেম করা হারাম পথে হয়, যেমন জেনা বা শরীয়তের নিয়ম না মেনে হয়, তাহলে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
হারাম প্রেমের ফলে দোয়া কবুল না হওয়ার কারণঃ
  • গুনাহের কাজঃ হারাম প্রেম করা একটি গুনাহের কাজ, যা দোয়া কবুল হতে বাধা দেয়।
  • আল্লাহর নিষেধ অমান্যঃ হারাম প্রেম করা আল্লাহর নিষেধ অমান্য করা, যা দোয়া কবুল হতে বাধা দেয়।
  • ইমান দুর্বল হওয়াঃ হারাম প্রেম করা ইমান দুর্বল করে, যা দোয়া কবুল হতে বাধা দেয়।

যেনা করলে তার শাস্তি কি

যেনা একটি কবিরা গুনাহ, যার শাস্তি ইসলামে খুবই কঠিন। জেনা করলে শাস্তি দুই ধরনের হতে পারে-
  1. দুনিয়াতে শাস্তিঃ ইসলামী শরীয়তে যেনার শাস্তি হলো রজম (পাথর মেরে মারা) যদি বিবাহিত হয়, আর যদি অবিবাহিত হয় তাহলে ১০০ বেত্রাঘাত।
  2. পরকালে শাস্তিঃ পরকালে জেনাকারীর জন্য কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে। হাদিসে এসেছে, জেনাকারীকে জাহান্নামের একটি গর্তে পাওয়া যাবে, যেখানে তারা রক্ত-পুঁজের মধ্যে থাকবে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে জেনা থেকে দূরে রাখুন এবং আমাদেরকে হেদায়েত দান করুন।

যেনা করলে কি তা থেকে মাফ পাওয়ার কোন উপায় আছে

আমরা ইতোমধ্যেই জেনেছি যেনা করলে কি দোয়া কবুল হয় কিনা। যেনা করা একটি কবিরা গুনাহ, কিন্তু আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল এবং দয়ালু। যদি কেউ যেনা করে এবং তওবা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, "তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু।" (সূরা নূর, আয়াত ৩১)
যেনা থেকে মাফ পাওয়ার উপায়ঃ
  • তওবা করাঃ সত্যিকারের তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন।
  • গুনাহ ছেড়ে দেওয়াঃ জেনা করার গুনাহ স্বীকার করতে হবে এবং গুনাহ ছেড়ে দিতে হবে।
  • ক্ষমা চাওয়াঃ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি ক্ষমা করতে পারেন।
  • ভবিষ্যতে না করার প্রতিজ্ঞা করাঃ ভবিষ্যতে আর কখনো জেনা না করার প্রতিজ্ঞা করতে হবে।
  • নেক আমল করাঃ নেক আমল করলে আল্লাহর ক্ষমা পাওয়া যায়।
  • সালাত আদায় করাঃ তওবার সালাত আদায় করতে হবে।
  • সাদাকা করাঃ সাদাকা করলে আল্লাহর ক্ষমা পাওয়া যায়।
  • হজ্জ ও উমরা করাঃ হজ্জ ও উমরা করলে আল্লাহর ক্ষমা পাওয়া যায়।

যেনাকারী কি জান্নাতে যেতে পারবে

যেনাকারী কি জান্নাতে যেতে পারবে? যেনাকারী যদি তওবা করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, "তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু।" তওবা করলে আল্লাহ যেনাকারীর গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারেন। কিন্তু যদি যেনাকারী তওবা না করে এবং মৃত্যুর আগে ক্ষমা না চায়, তাহলে তার জন্য জাহান্নামের শাস্তি অপেক্ষা করছে।

যেনা থেকে বাঁচার দোয়া ও উপায়

আমরা ইতোমধ্যেই জেনেছি যেনা করলে কি দোয়া কবুল হয় কিনা। এখন জানব যেনা থেকে বাঁচার দোয়া এবং উপায়সমূহ।
যেনা থেকে বাঁচার দোয়া-
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি আউদু বিকা মিন শাররি নাফসি ওয়া মিন শাররি শায়তানি ওয়া শিরকিহি ওয়া মিন শাররি কুল্লি দামিইন ওয়া মিন শাররি কুল্লি দি দামি।
অর্থঃ হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে আমার নফসের অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্ট থেকে, তার শিরক থেকে, এবং সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে পানাহ চাই।

যেনা থেকে বাঁচার উপায়সমূহ-
  • নিয়তকে পরিষ্কার রাখাঃ সবসময় নিয়তকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং আল্লাহর প্রতি ভয় রাখতে হবে।
  • পর্দা করাঃ পর্দা করা জরুরি, বিশেষ করে নারীদের জন্য।
  • অপরিচিতদের সাথে মেলামেশা না করাঃ অপরিচিতদের সাথে মেলামেশা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • বিবাহ করাঃ বিবাহ করা জেনা থেকে বাঁচার একটি উপায়।
  • দোয়া করঃ নিয়মিত দোয়া করতে হবে এবং আল্লাহর কাছে জেনা থেকে বাঁচার জন্য প্রার্থনা করতে হবে।
  • সালাত আদায় করাঃ নিয়মিত সালাত আদায় করতে হবে এবং আল্লাহর প্রতি মনোযোগ বাড়াতে হবে।
  • কুরআন পড়াঃ কুরআন পড়া এবং তিলওয়াত করা জেনা থেকে বাঁচার একটি উপায়।

হারাম রিলেশনশিপ থেকে বাঁচার দোয়া ও উপায়

আমরা ইতোমধ্যেই জেনেছি যেনা করলে কি দোয়া কবুল হয় কিনা। এখন জানব হারাম রিলেশনশিপ থেকে বাঁচার দোয়া এবং উপায়সমূহ।
হারাম রিলেশনশিপ থেকে বাঁচার দোয়া-
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মাহফাজনি মিন শাররি ফিতনাতি ওয়া মিন শাররি হারামি।
অর্থঃ হে আল্লাহ, আমাকে ফিতনা ও হারাম থেকে রক্ষা কর।
হারাম রিলেশনশিপ থেকে বাঁচার উপায়সমূহ-
  • তাকওয়া অবলম্বন করাঃ তাকওয়া অবলম্বন করলে হারাম রিলেশনশিপ থেকে বাঁচা যায়।
  • নফসকে নিয়ন্ত্রণ করাঃ নফসকে নিয়ন্ত্রণ করলে হারাম রিলেশনশিপ থেকে বাঁচা যায়।
  • সৎ সঙ্গ অবলম্বন করাঃ সৎ সঙ্গ অবলম্বন করলে হারাম রিলেশনশিপ থেকে বাঁচা যায়।
  • বিয়ে করাঃ বিয়ে করলে হারাম রিলেশনশিপ থেকে বাঁচা যায়।
  • আল্লাহর সাহায্য চাওয়াঃ আল্লাহর সাহায্য চাইলে হারাম রিলেশনশিপ থেকে বাঁচা যায়।
  • দৃষ্টি নত রাখাঃ দৃষ্টি নত রাখলে হারাম রিলেশনশিপ থেকে বাঁচা যায়।
  • বিপরীত লিংগের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকাঃ বিপরীত লিংগের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকলে হারাম রিলেশনশিপ থেকে বাঁচা যায়।

শেষকথাঃ যেনা করলে কি দোয়া কবুল হয়

যেনা করলে কি দোয়া কবুল হয় কিনা তা নিয়ে উপরে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও আরো কোন কোন কারনে দোয়া কবুল হয় না, যেনা করলে কেন দোয়া কবুল হয় না, কোন কোন ব্যক্তির দোয়া কবুল হয় না, যেনাকারীর শাস্তি, মাফ পাওয়ার উপায়, যেনা থেকে বাঁচার দোয়া নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

আশা করি আপনি পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়েছেন। যদি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে ফলো করে দেবেন এবং আপনার মতামতটি কমেন্টে জানাবেন।  আর্টিকেলটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ঐশী; আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url