আমার ফেসবুক আইডি লগইন হচ্ছে না কেন

আমার ফেসবুক আইডি লগইন হচ্ছে না কেন? কে নিয়ে অনেকে চিন্তিত থাকেন। কেননা অনেকের কাছে তার ফেসবুক আইডি বা পেজ অনেক শখের বা প্রয়োজনীয় হয়ে থাকে।

আমার-ফেসবুক-আইডি-লগইন-হচ্ছে-না-কেনআমি আজকে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করব ফেসবুক আইডি কেন লগইন হয় না এবং এর সমস্যাগুলো ও সমাধান সম্পর্কে। আশা করি আর্টিকেলটি আপনি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

পেজ সূচিপত্রঃ আমার ফেসবুক আইডি লগইন হচ্ছে না কেন

আমার ফেসবুক আইডি লগইন হচ্ছে না কেন

ফেসবুক আইডি লগইন না হওয়ার কারণ নিয়ে বলতে গেলে বেশ কিছু বিষয় সামনে আসে। প্রথমত, পাসওয়ার্ড বা ইউজারনেম ভুল হলে লগইন করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় আমরা পাসওয়ার্ড ভুলে যাই বা ক্যাপস লক অন করে পাসওয়ার্ড দেই, ফলে লগইন হয় না। আবার, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট যদি ব্লক বা সাসপেন্ড হয়ে যায়, সেক্ষেত্রেও লগইন করা যায় না। 

ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভঙ্গ করলে বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের কারণে অ্যাকাউন্ট ব্লক হতে পারে। এছাড়া ব্রাউজার বা অ্যাপ আপডেট না থাকলে, নেটওয়ার্ক সমস্যা থাকলে, আইডি হ্যাক হওয়া বা ফেসবুকের সিকিউরিটি চেকপয়েন্টের কারণেও লগইন করা সম্ভব হয় না। এছাড়াও ফেসবুকের সার্ভার ডাউন থাকলেও লগইন করা যায় না। ফেসবুক আইডি লক,  বন্ধ, ডিজেবল এবং এর সমাধান গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিম্নে আরো পড়ুন।

ফেসবুক আমার আইডি গ্রহণ করছে না কেন

ফেসবুক আইডি গ্রহণ না করার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ থাকতে পারে। অনেক সময় ভুল ইমেইল, ফোন নম্বর বা পাসওয়ার্ড দিলে লগইন হয় না। আবার অনেক সময় ফেসবুকের নিরাপত্তা সিস্টেম সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে অ্যাকাউন্ট লক করে দেয়, যেমন অস্বাভাবিক লগইন চেষ্টা বা স্প্যামিং। কিছু ক্ষেত্রে ফেসবুক কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভঙ্গ করলে অ্যাকাউন্ট সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যেমন আপত্তিকর কনটেন্ট শেয়ার করা বা নকল নাম ব্যবহার করা। 

এছাড়া, ফেসবুকের সার্ভার ডাউন থাকলে বা ইন্টারনেট সংযোগ দুর্বল হলে লগইন সমস্যা হতে পারে।ব্রাউজার বা অ্যাপ পুরনো ভার্সন ব্যবহার করলেও সমস্যা হতে পারে, কারণ নতুন আপডেটে নিরাপত্তা ফিচার যোগ হয়। টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু থাকলে সঠিক কোড না দিলে লগইন করা যায় না।এছাড়া, অনেক সময় ফেসবুক নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ফোন নম্বর বা ইমেইল ভেরিফিকেশন চায়, যা না করলে আইডি গ্রহণ করে না।

আমার ফেসবুক আইডি অন্য কেউ চালায়

ফেসবুক আইডি অন্য কেউ চালাচ্ছে মনে হলে সাধারণত কিছু লক্ষণ দেখা যায়। যেমন, আপনার অজান্তে পোস্ট, মেসেজ বা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট যাচ্ছে, লগইন হিস্টোরিতে অপরিচিত ডিভাইস বা লোকেশন দেখা যাচ্ছে, বা পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়েছে বলে নোটিফিকেশন আসে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণত ফেসবুকের নিরাপত্তা সিস্টেম অ্যাকাউন্ট লক করে দিতে পারে, যাতে আরও ক্ষতি না হয়। অনেক সময় হ্যাকাররা ফিশিং লিঙ্ক বা দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে। 

এছাড়া, পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করলে বা শেয়ার করা ডিভাইসে লগইন থাকলে অন্য কেউ অ্যাক্সেস পেতে পারে। ফেসবুকের নিয়ম অনুযায়ী, সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে তারা অতিরিক্ত ভেরিফিকেশন চায়, যেমন ফোন নম্বর বা ইমেইল নিশ্চিত করা। এছাড়া, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু থাকলে একাউন্টে প্রবেশ করা কঠিন হয়।

আমার ফেসবুক আইডি লক হয়ে গেছে

ফেসবুক আইডি লক হয়ে যাওয়া মানে হলো ফেসবুক আপনার অ্যাকাউন্টে কোনো অস্বাভাবিক কিছু দেখেছে বা সন্দেহজনক কার্যকলাপ পেয়েছে। এটা হতে পারে অনেক কারণে, যেমনঃ
  • আপনি বা অন্য কেউ ভুল পাসওয়ার্ড বারবার দিয়েছে।
  • আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে স্প্যাম বা অটোমেটেড কিছু পোস্ট হয়েছে।
  • ফেসবুকের নিয়ম ভঙ্গ করে কোনো কনটেন্ট শেয়ার করেছেন।
  • অন্য কোনো ডিভাইস বা লোকেশন থেকে লগইন হয়েছে যা আপনার সাধারণ লগইন প্যাটার্নের বাইরে।
  • ফেসবুক আপনার পরিচয় যাচাই করতে চায়, যেমন ফটো আইডি চাওয়া।
এই সব ক্ষেত্রে ফেসবুক নিরাপত্তার জন্য অ্যাকাউন্ট লক করে দেয়, যাতে আপনার তথ্য সুরক্ষিত থাকে। লক হওয়ার পর সাধারণত ফেসবুক আপনাকে একটি নোটিফিকেশন পাঠায় এবং নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিতে বলে, যেমন ফোন নম্বর বা ইমেইল দিয়ে কোড ভেরিফাই করা, বা পরিচয়পত্র আপলোড করা।
আমার-ফেসবুক-আইডি-লগইন-হচ্ছে-না-কেন

লক হওয়া আইডি আবার চালু করতে ফেসবুকের নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে এগোতে হয়। সাধারণত আপনার রেজিস্টার করা ফোন নম্বর বা ইমেইলে একটি কোড আসে, সেটা দিয়ে অ্যাকাউন্ট আনলক করা যায়। যদি ফোন নম্বর বা ইমেইল ভুল থাকে, সেটা আপডেট করতে হয়। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য সরকারি ফটো আইডি আপলোড করতে হতে পারে, যা ফেসবুক নিরাপদে সংরক্ষণ করে।

এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা যায় না। তাই লগইন করার সময় সঠিক তথ্য দেওয়া এবং নিরাপদ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা জরুরি। এছাড়া, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখলে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা অনেক বেড়ে যায়।

ফেসবুক আইডির বা পেজ হঠাৎ নষ্ট বা বন্ধ হওয়ার কারণ কি

ফেসবুক আইডি বা পেজ বন্ধ হওয়ার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ থাকে। মূলত ফেসবুক তাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড এবং ব্যবহারের শর্তাবলী কঠোরভাবে অনুসরণ করে। যদি কোনো অ্যাকাউন্ট বা পেজ এই নিয়ম ভঙ্গ করে, তাহলে ফেসবুক সেটা বন্ধ বা সাসপেন্ড করে দিতে পারে। নিচে কিছু প্রধান কারণ দেওয়া হলোঃ
  • নকল নাম বা ভুয়া তথ্য ব্যবহারঃ ফেসবুক চায় ব্যবহারকারীরা তাদের আসল নাম ব্যবহার করুক। নকল নাম বা ভুয়া পরিচয় দিলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হতে পারে।
  • অপব্যবহার বা স্প্যামঃ অতিরিক্ত ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো, অযাচিত মেসেজ পাঠানো, বা একই ধরনের পোস্ট বারবার করা স্প্যাম হিসেবে গণ্য হয়।
  • অশ্লীল, হিংস্র বা আপত্তিকর কনটেন্টঃ যেমন হিংস্রতা, ঘৃণা ছড়ানো, হ্যারাসমেন্ট, বা যৌন বিষয়বস্তু শেয়ার করা।
  • কপিরাইট লঙ্ঘনঃ অন্যের ছবি, ভিডিও, বা লেখা অনুমতি ছাড়া শেয়ার করলে রিপোর্ট আসলে পেজ বা আইডি বন্ধ হতে পারে।
  • হ্যাকিং বা সন্দেহজনক কার্যকলাপঃ অস্বাভাবিক লগইন, একাধিক ডিভাইস থেকে একসাথে অ্যাক্সেস, বা অন্যের অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা।
  • বিজ্ঞাপন নীতি লঙ্ঘনঃ ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন দেওয়ার সময় তাদের নির্দিষ্ট নিয়ম না মানলে পেজ বন্ধ হতে পারে।
  • অনেক অভিযোগ বা রিপোর্টঃ অন্য ব্যবহারকারীরা যদি আপনার অ্যাকাউন্ট বা পেজের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ করে, ফেসবুক তদন্ত করে বন্ধ করে দিতে পারে।

ফেসবুক আইডি বন্ধ হয়ে গেছে কি করে খুলবো

ফেসবুক আইডি বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণত ফেসবুক একটি নোটিফিকেশন দেয়, যেখানে কারণ এবং কীভাবে ফিরে পাওয়া যাবে তা বলা থাকে। ফেসবুক আইডি লক হয়ে গেলে খুলতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুনঃ

ধাপ ১ঃ ফেসবুক লগইন পেজে যান
আপনার ইমেইল বা ফোন নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার চেষ্টা করুন।

ধাপ ২ঃ লক নোটিফিকেশন দেখুন
লগইন করার সময় ফেসবুক যদি বলে যে অ্যাকাউন্ট লক হয়েছে, সেখানে কারণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপের নির্দেশনা থাকবে।

ধাপ ৩ঃ ফোন নম্বর বা ইমেইল ভেরিফিকেশন
ফেসবুক সাধারণত আপনার রেজিস্টার করা ফোন নম্বর বা ইমেইলে একটি কোড পাঠাবে। সেই কোডটি প্রবেশ করে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করুন।

ধাপ ৪ঃ পরিচয় যাচাই
ফেসবুক অনেক সময় সরকারি ফটো আইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স) আপলোড করতে বলে। স্পষ্ট ছবি তুলে বা স্ক্যান করে আপলোড করুন। এই তথ্য ফেসবুক নিরাপদে সংরক্ষণ করে এবং প্রোফাইলে দেখায় না।

ধাপ ৫ঃ অ্যাকাউন্ট আনলক আবেদন করুনঃ
লক পেজে থাকা "Continue" বা "Submit" বাটনে ক্লিক করে ফেসবুকের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন জমা দিন।

ধাপ ৬ঃ অপেক্ষা করুন
ফেসবুক সাধারণত ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আপনার আবেদন পর্যালোচনা করে ফলাফল জানাবে। এই সময়ে ফোন বা ইমেইল চেক করতে থাকুন।

ধাপ ৭ঃ অতিরিক্ত সাহায্য প্রয়োজন হলে
ফেসবুক হেল্প সেন্টারে গিয়ে "Account Locked" সম্পর্কিত সমস্যা নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পারেন বা নতুন করে আবেদন করতে পারেন।

ধাপ ৮ঃ ভবিষ্যতে সতর্ক থাকুন
ফেসবুকের নিয়ম মেনে চলুন, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন, এবং টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখুন যাতে আবার লক না হয়।

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করার উপায় কি

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা লক হয়ে গেলে পুনরুদ্ধার করতে কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হয়। নিচে সহজভাবে বলছিঃ
  1. লগইন করার চেষ্টা করুনঃ ফেসবুক অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার ইমেইল বা ফোন নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।
  2. ভেরিফিকেশন কোডঃ যদি অ্যাকাউন্ট লক থাকে, ফেসবুক আপনার রেজিস্টার করা ফোন নম্বর বা ইমেইলে একটি কোড পাঠাবে। সেই কোড দিয়ে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করুন।
  3. পরিচয় যাচাইঃ অনেক সময় ফেসবুক আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে সরকারি ফটো আইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স) আপলোড করতে বলে। এটি নিরাপদে রাখা হয় এবং প্রোফাইলে দেখা যায় না।
  4. আপিল করাঃ লগইন পেজে "Appeal" বা "Request Review" অপশন আসলে সেখানে ক্লিক করে ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে পারেন
  5. হেল্প সেন্টারঃ ফেসবুকের হেল্প অ্যান্ড সাপোর্ট সেকশনে গিয়ে "My Account is Disabled" ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে পারেন।
  6. সাধারণত ২৪-৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফেসবুক রিভিউ করে আপনাকে জানাবে।

ডিজেবল ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার উপায়

ফেসবুক আইডি ডিসেবল হয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হয়। নিচে সহজভাবে বলছিঃ
  1. ফেসবুক লগইন পেজে যানঃ আপনার ইমেইল বা ফোন নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার চেষ্টা করুন।
  2. ডিসেবল নোটিফিকেশন দেখুনঃ যদি অ্যাকাউন্ট ডিসেবল হয়, ফেসবুক সাধারণত একটি বার্তা দেখাবে যে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করা হয়েছে এবং কেন হয়েছে।
  3. আপিল ফর্ম পূরণ করুনঃ ফেসবুকের "My Account is Disabled" পেজে গিয়ে একটি আপিল ফর্ম পূরণ করতে হবে। এই ফর্মে আপনার নাম, ইমেইল বা ফোন নম্বর, এবং একটি সরকারি ফটো আইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স) আপলোড করতে হবে।
  4. পরিচয় যাচাইঃ ফেসবুক আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে এই ডকুমেন্ট চায়। এটি নিরাপদে সংরক্ষণ করা হয় এবং প্রোফাইলে দেখা যায় না।
  5. ফেসবুকের রিভিউ অপেক্ষা করুনঃ সাধারণত ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফেসবুক আপনার আবেদন পর্যালোচনা করে ফলাফল জানাবে।
  6. যোগাযোগের তথ্য সঠিক রাখুনঃ আবেদন করার সময় সঠিক ইমেইল বা ফোন নম্বর দিন, যাতে ফেসবুক আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে।
  7. ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলুনঃ ভবিষ্যতে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়া এড়াতে ফেসবুকের নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
আমার-ফেসবুক-আইডি-লগইন-হচ্ছে-না-কেন

ফেসবুক ডিজেবল আইডি রিমুভ করার নিয়ম

ফেসবুক ডিসেবল আইডি রিমুভ করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুনঃ
  1. প্রথমে ফেসবুকের লগইন পেজে গিয়ে আপনার ইমেইল, ফোন নম্বর বা ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার চেষ্টা করুন।
  2. যদি অ্যাকাউন্ট ডিসেবল হয়ে থাকে, স্ক্রিনে একটি বার্তা আসবে যেখানে বলা হবে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। সেখানে কারণও থাকতে পারে, সেটা ভালো করে পড়ুন।
  3. ফেসবুকের হেল্প সেন্টারে গিয়ে "My Account is Disabled" বা "Appeal" নামক একটি ফর্ম খুঁজে বের করুন। লগইন পেজ থেকেই সাধারণত এই অপশন পাওয়া যায়।
  4. আপিল ফর্মে আপনার পূর্ণ নাম, ইমেইল ঠিকানা বা ফোন নম্বর সঠিকভাবে লিখুন। ফেসবুক আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে সরকারি ফটো আইডি চাইবে। যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স।
  5. আপনার ফটো আইডি স্পষ্টভাবে ছবি তুলে বা স্ক্যান করে আপলোড করুন। এই তথ্য ফেসবুক নিরাপদে রাখে এবং আপনার প্রোফাইলে প্রকাশ করে না।
  6. সব তথ্য পূরণ করার পর ফর্মটি সাবমিট করুন। এরপর ফেসবুক সাধারণত ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আপনার আবেদন পর্যালোচনা করে ফলাফল জানাবে।
  7. এই সময়ের মধ্যে আপনার ইমেইল বা ফোনে ফেসবুক থেকে আসা বার্তা চেক করতে থাকুন। সেখানে পরবর্তী নির্দেশনা বা ফলাফল থাকতে পারে।
  8. ভবিষ্যতে অ্যাকাউন্ট ডিসেবল হওয়া এড়াতে ফেসবুকের নিয়ম মেনে চলুন, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখুন।

ফেসবুক হেল্প সেন্টার রিকভারি অ্যাকাউন্ট

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রিকভারি করতে হলে ফেসবুক হেল্প সেন্টার থেকে কিছু নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হয়। নিচে বিস্তারিতভাবে বলছিঃ

ধাপ ১ঃ ফেসবুক লগইন পেজে যান
প্রথমে ফেসবুক অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার ইমেইল, ফোন নম্বর, বা ইউজারনেম দিয়ে লগইন করার চেষ্টা করুন। যদি পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন, "Forgot Password?" অপশনে ক্লিক করুন।

ধাপ ২ঃ রিকভারি অপশন নির্বাচন করুন
ফেসবুক আপনাকে ইমেইল বা ফোন নম্বর দিয়ে পাসওয়ার্ড রিসেট করার অপশন দেবে। আপনার রেজিস্টার করা ইমেইল বা ফোন নম্বর দিন।

ধাপ ৩ঃ কোড পান এবং প্রবেশ করুন
ফেসবুক আপনার দেওয়া ইমেইল বা ফোনে একটি ভেরিফিকেশন কোড পাঠাবে। সেই কোডটি নির্ধারিত জায়গায় বসিয়ে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করুন।

ধাপ ৪ঃ নতুন পাসওয়ার্ড সেট করুন
কোড ভেরিফাই হওয়ার পর নতুন পাসওয়ার্ড তৈরি করার সুযোগ পাবেন। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিন, যাতে অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন থাকে।

ধাপ ৫ঃ অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস ফিরে পান
নতুন পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। এখন আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবেন।

ধাপ ৬ঃ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করুন
লগইন করার পর সেটিংসে গিয়ে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করুন। এতে ভবিষ্যতে অ্যাকাউন্ট নিরাপদ থাকবে।

ধাপ ৭ঃ হেল্প সেন্টার থেকে অতিরিক্ত সাহায্য
যদি উপরের ধাপে কাজ না হয়, ফেসবুক হেল্প সেন্টারে গিয়ে "Account Recovery" বা "Can't Log In" অপশন বেছে নিন। সেখানে ফেসবুক আপনাকে আরও বিস্তারিত নির্দেশনা দেবে।

ধাপ ৮ঃ পরিচয় যাচাই
ফেসবুক অনেক সময় সরকারি ফটো আইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স) আপলোড করতে বলে। স্পষ্ট ছবি তুলে আপলোড করলে ফেসবুক আপনার অ্যাকাউন্ট ফিরিয়ে দিতে পারে।

ধাপ ৯ঃ অপেক্ষা করুন
আবেদন করার পর ফেসবুক সাধারণত ২৪-৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিভিউ করে ফলাফল জানায়।

শেষকথাঃ আমার ফেসবুক আইডি লগইন হচ্ছে না কেন

ফেসবুক আইডি লগইন না হওয়ার পেছনে ভুল পাসওয়ার্ড ও ইমেইল/নাম্বার ব্যবহার করা, অ্যাকাউন্ট লক বা ডিজেবল হয়ে যাওয়া সব বিভিন্ন কারণ উপরে জানলাম। এছাড়াও জানলাম কিভাবে এগুলোর সমাধান করা যায়।

আশা করি আর্টিকেলটি থেকে আপনি উপকৃত হয়েছেন। এর পরবর্তীতে কোন বিষয়ের ওপরে আর্টিকেল দেখতে চান তা কমেন্ট বক্সে জানাবেন এবং আপনার বন্ধুদের মাঝে এই আর্টিকেলটি শেয়ার করে দিবেন যাতে তারাও উপকৃত হতে পারে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ঐশী; আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url