ইন্টারনেট ব্যবহারের সুফল ও কুফল
ইন্টারনেট আমাদের জিবনে তথ্য, বিনোদন এবং যোগাযোগের এক অনন্য ব্যবস্থা। ইন্টারনেট আধুনিক সভ্যতার এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। এটি আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি এর কিছু অপব্যবহারও আছে।
ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে যেমন আমরা নতুন কিছু শিখতে পারি ঠিক তেমনি আমরা অনেক হয়রানির শিকার হতে পারি। চলুন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুফল ও কুফল সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাক।পেজ সূচিপত্রঃ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুফল ও কুফল
- ইন্টারনেট ব্যবহারের সুফল ও কুফল
- শিক্ষা ও গবেষণায় ইন্টারনেটের ব্যবহার
- বিনোদন ও যোগাযোগের নতুন দিগন্ত
- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিবাচক দিক
- ইন্টারনেট এর মাধ্যমে তথ্যের সহজলভ্যতা
- ব্যবসা ও অর্থনীতিতে ইন্টারনেটের প্রভাব
- চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে ইন্টারনেটের ব্যবহার
- কোন স্থানের দিকনির্দেশনা পেতে ইন্টারনেট
- ইন্টারনেট আসক্তি ও অতিরিক্ত ব্যবহারের কুফল
- ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা হুমকির মুখে
- চোখের সমস্যা ও মানসিক চাপ
- শেষকথাঃ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুফল ও কুফল
ইন্টারনেট ব্যবহারের সুফল ও কুফল
ইন্টারনেট হলো একটি বিশাল নেটওয়ার্ক যা সারা বিশ্বের কম্পিউটারগুলিকে সংযুক্ত
করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ যেকোনো স্থান থেকে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে
এবং ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারে। আপনি ইন্টারনেটের সাথে একটি
কম্পিউটার সংযুক্ত করে এইসব করতে পারেন যাকে অনলাইনে যাওয়াও বলা হয়। যখন কেউ
বলে যে একটি কম্পিউটার অনলাইন, তখন এটি ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত বলার অন্য
উপায়।
ইন্টারনেট হলো ইন্টারকানেক্টেড নেটওয়ার্ক (Interconnected network) এর সংক্ষিপ্ত
রূপ। ইন্টারনেট আধুনিক সভ্যতার এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। মানুষ এখন
ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সবকিছু পেয়ে যাচ্ছে হাতের
মুঠোয়। এটি একটি বিশ্বের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করার এক শক্তিশালী মাধ্যম। এটি
আমাদের জীবনকে সহজ ও গতিশীল করেছে। কিন্তু এর অপব্যবহার আমাদের জীবনে অনেক ক্ষতির
কারণ ও হতে পারে।
ইন্টারনেট আধুনিকতার বার্তা বাহক যা পৃথিবীকে তৈরি করেছে একটা গ্রামের সমান
আঙ্গুলের এক ইশারায় আমরা পৃথিবীর যেকোনো খবর জানতে পারি জানাতে পারি নিজের খবরও।
ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে চোখের পলকে সারা বিশ্বের সংবাদ ও মতামত আমাদের নিকট
এসে পৌঁছে। ইন্টারনেটের সংবাদ পরিক্রমা বিধান সংবলিত নির্দেশনা গুলির মাধ্যমে
আমরা খুব সহজে ও দ্রুত বিশ্বের যে কোন দেশের সংবাদপত্রসমূহ পড়তে পারি। ইন্টারনেট
ব্যবসা ও অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটি ব্যবসাকে আরও সহজ,
দ্রুত এবং সাশ্রয়ী করে তুলেছে।
টেলিনেট সফটওয়্যার আমাদের দেশে-বিদেশে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা
বলতে সাহায্য করে। ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে আমরা যেকোনো তথ্য বা ফাইল এক
কম্পিউটার থেকে আরেক কম্পিউটারে আদান প্রদান করতে পারি। অতএব আমাদের দৈনন্দিন
জীবনে খুঁটিনাটি কাজগুলো থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক-বীমা, অফিসের
কাজকর্ম, গবেষণা, শিক্ষা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রায়ই সকল কাজই ইন্টারনেটের
মাধ্যমে সমাধান করতে পারি।
ইন্টারনেটের ভালো দিকের পাশাপাশি কিছু খারাপ দিকও আছে। ইন্টারনেটের প্রতি
অতিরিক্ত আসক্তি সময়ের অপচয়, আমাদের উৎপাদনশীলতা এবং স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব
ফেলে। ইন্টারনেটের অসুবিধার মধ্যে খুব কমন হল হ্যাকিং। হ্যাকারদের জন্য সামাজিক
মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য আজ খুব হুমকির মুখে। ইন্টারনেট ব্যবহার অপরিহার্য কিন্তু
এটির ব্যাবহারের ক্ষতিকারক দিকগুলো নিয়ে সচেতন না থাকলে আধুনিক জীবন দুর্বিষহ
হয়ে উঠতে পারে।
শিক্ষা ও গবেষণায় ইন্টারনেটের ব্যবহার
ইন্টারনেট দুনিয়ার নিত্য নতুন সেবা আমাদেরকে মুগ্ধ করে তোলে। এখন আর কেউ চার
দেয়ালের জীবনে আবদ্ধ থাকে না। এখন মানুষ চার দেয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে এক মুহূর্তে
পাড়ি জমাচ্ছে তথ্য ও জ্ঞানের বিরাট সাগরে এবং খুঁজে নিতে পারছে নিজেদের
প্রয়োজনীয় জ্ঞান। মানুষ এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী
সবকিছু পেয়ে যাচ্ছে হাতের মুঠোয়। শিক্ষা থেকে শুরু করে গবেষণা পর্যন্ত
ইন্টারনেটের প্রভাব বিস্তার।
ইন্টারনেট শিক্ষা ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শিক্ষক,
শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের তথ্যের একটি বিশাল ভান্ডার প্রদান করে।ইন্টারনেটের
মাধ্যমে শিক্ষার অগ্রগতি ব্যাপকভাবে সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন অনলাইন কোর্স,
ই-লাইব্রেরী,গবেষণা পত্র এবং টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সহজেই জ্ঞান
অর্জন করতে পারছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন তারা তাদের কোষ পেয়ে জমা দিতে
পারছে। এমনকি ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইনে পরীক্ষাও দেওয়া যায়।
শিক্ষা ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের সুফল শুধু শিক্ষার্থীদের জন্যই নয় শিক্ষকদের জন্য
বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভার্চুয়াল ক্লাসের ব্যবস্থা শিক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন
মাত্রা যোগ করেছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার্থীদের সাথে
যোগাযোগ করে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে দিতে পারেন। ফলে যে কোন স্থান থেকে
শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের বিষয় সম্পর্কে জানতে পারছে এবং নিজেদের জ্ঞানকে
সমৃদ্ধ করতে পারছে। এছাড়াও তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের পেশাগত কোর্সে অংশ
নিতে পারেন।
গবেষণা ক্ষেত্রেও ইন্টারনেটের ভূমিকা কিছু কম নয়। ইন্টারনেটে বিভিন্ন বিষয়ের
ওপরে গবেষণা পত্র ও ডেটাবেজ পাওয়া যায়। এছাড়াও ইন্টারনেটে বিভিন্ন বিষয়ের উপর
জার্নাল পাওয়া যায়। ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইন মাধ্যমে কনফারেন্স ও
সেমিনারে অংশগ্রহণ করা যায়। বিভিন্ন বিষয়ে লিখতে বা গবেষণা করতে প্রচুর বইয়ের
প্রয়োজন হয়। কিন্তু ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে বসে দেশের বা
বিদেশের যেকোনো লাইব্রেরির দুষ্প্রাপ্য বই বা তথ্যাবলী জানা যায়।
বিনোদন ও যোগাযোগের নতুন দিগন্ত
ইন্টারনেট বিনোদনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। বিনোদনের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার এখন বেপক। এখন আর সিনেমা দেখতে গেলে
সিনেমা হলে যেতে হয় না ঘরে বসেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে মুভি ও টিভি শো দেখা
যায়, মিউজিক শোনা
যায়। পাবজি, ফ্রি ফায়ার, ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যান্স ইত্যাদি গেমস অনলাইনে খেলা যায়।
ইন্টারনেট ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলো মানুষকে একে অপরের সাথে
যোগাযোগ করার সুযোগ করে দেয়। ইন্টারনেটে লাইভ স্ট্রিমিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন
ধরনের অনুষ্ঠান দেখা যায়।
বর্তমানে সারা বিশ্বের যে একটা গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে, তার মূলে রয়েছে
ইন্টারনেট। ইন্টারনেট পুরো বিশ্বকে আমাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। আজ আর
কারো সাথে মনের কথা বলার জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় না, নিজের প্রিয়
মানুষের কাছে মনের কথা বলে দেওয়া এখন মুহূর্তের বিষয়। শুধু মনের কথা নয় ছবি,
ভিডিও, গান সহ যেকোন তথ্য পাঠিয়ে আমরা প্রকাশ করতে পারি আমাদের মনের অনুভূতি। ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মে আমরা বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ
করতে পারি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিবাচক দিক
সামাজিক যোগাযোগ আমাদের জীবনে অনেক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এটি আমাদের
বিভিন্নভাবে সাহায্য করে। যে মাধ্যম ব্যবহার করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার
মানুষ একে অপরের সাথে তাদের সুখ দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ইত্যাদি আদান-প্রদান করতে পারে
ইত্যাদি আদান-প্রদান করতে পারে তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বলে। বর্তমানে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো প্রধানত অনলাইননির্ভর। যেমন-ফেসবুক, টুইটার,
হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ইত্যাদি। এই মাধ্যমগুলো বিশ্বব্যাপী তথ্যের আদান-প্রদান
সহজ করে।
তবে এগুলোর মধ্যে ফেসবুক বর্তমান সময়ে বেশি জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম। ২০০৪ সালে
মার্কিন প্রযুক্তিবিদ মার্ক জুকারবার্গ এটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে পৃথিবীতে
প্রায় ১০০ কোটির বেশি মানুষ ফেসবুকের মাধ্যমে একে অপরের সাথে জড়িত। এর মাধ্যমে
বন্ধু-বান্ধবদের সাথে যোগাযোগ করা, নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া, তথ্য ও খবর
শেয়ার করা যায়।এমনকি সম্পন্ন বিনামূল্যে নিজের অনুভূতি শেয়ার করা থেকে শুরু
করে বিজ্ঞাপন প্রচারণা চালানো যায়।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। কারণ অধিকাংশ সামাজিক
মাধ্যমই বিনামূল্যে সেবা প্রদান করে থাকে। বেশিরভাগ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী এখন
তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক প্রভৃতি মাধ্যমে
নিজেদের সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত তৈরি, বন্ধু তৈরি, ব্যক্তিগত কথোপকথন সংরক্ষণ,
ছবি, ভিডিও এবং নিজেদের লেখা আদার প্রদান করতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচী
ইন্টারনেট এর মাধ্যমে তথ্যের সহজলভ্যতা
ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজলভ্যতা আমাদের জীবনকে সহজ করে দিয়েছে। এখন আমরা যেকোন
তথ্য খুব সহজেই ইন্টারনেট থেকে পেতে পারি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্যের
সহজলভ্যতা মানে হলো সার্চ ইঞ্জিন কিংবা গুগল ব্যবহার করে তথ্য খুব সহজে এবং দ্রুত
পাওয়া যায়। ইন্টারনেটে অনলাইন সম্প্রদায় রয়েছে যেখানে আমরা অন্যান্য মানুষের
সাথে যোগাযোগ করতে পারি। ইন্টারনেটে সহজলভ্য তথ্যের সুবিধা নিতে এবং বিভ্রান্তি
এড়াতে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরী।
ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে কোন বিষয়ে তথ্য মুহূর্তের মধ্যে পাওয়া যায় যা
পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য খুবই সহায়ক। শুধুমাত্র পাঠ্য তথ্যই নয়, ভিডিও,ছবি এবং
অডিওর মাধ্যমেও তথ্য পাওয়া যায়। পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে দ্রুত যোগাযোগ করা
যায় এবং অন্যদের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করা যায় অনলাইনে কোর্স এবং শিক্ষামূলক
ভিডিওর মাধ্যমে সহজে নতুন কিছু শেখা যায়।এভাবেই ইন্টারনেট পুরো বিশ্বকে আমাদের
হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে এবং জীবনকে সহজ করেছে।
ব্যবসা ও অর্থনীতিতে ইন্টারনেটের প্রভাব
ইন্টারনেট ব্যবসা ও অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটি ব্যবসাকে
আরও সহজ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী করে তুলেছে। ইন্টারনেটের কারণে অনলাইন ব্যবসার
বিস্তার হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিতে নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
অনেকে আবার নেট দুনিয়ায় খুঁজে নিচ্ছে তাদের কর্মসংস্থান। মানুষের কাজের গতি
বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করছে ইন্টারনেট। ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে মানুষ
সহজে পণ্য ক্রয় বিক্রয় করতে পারে যা সময় এবং অর্থ সাশ্রয় করে।
অনলাইন শপিং করার জন্য লোকজন কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল বা ট্যাবলেট এর মাধ্যমে
বিভিন্ন প্লাটফর্মে (যেমন দারাজ, অথবা, অ্যামাজন) অন্য বা পরিষেবা কেনেন।
ক্রেতারা অনলাইন শপিং করার জন্য যে কোন ওয়েবসাইট বা অ্যাপে যান, পণ্য ব্রাউজ করে
কার্টে যোগ করেন এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে পেমেন্ট করেন। এরপর পণ্যটি তাদের
ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হয়। তাই আর কষ্ট করে দোকানে যেতে হয়
না, বাড়িতে বসেই কেনাকাটা করা যায়। তাতে অনেক সময় সাশ্রয়
হয়।
অনলাইন বিক্রয়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যা ব্যবসার প্রসার ও
গ্রাহকদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে। অনলাইনে যারা পণ্য বা পরিষেবা
বিক্রয় করেন, বিক্রেতারা একটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে নিজেদের অ্যাকাউন্ট তৈরি
করেন এরপর পণ্যের বিবরণ ও ছবি আপলোড করেন এবং বিক্রয়ের জন্য তালিকাভুক্ত করেন।
যখন ক্রেতারা পণ্যটি কেনেন তখন বিক্রেতা ক্রেতার কাছে পণ্যটি পাঠিয়ে দেন এবং
ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইনে পেমেন্ট পেয়ে যায়। এতে একটি বৃহৎ সংখ্যক ক্রেতার
কাছে পণ্য পৌঁছানো যায় এমনকি দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও।
চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে ইন্টারনেটের ব্যবহার
ইন্টারনেট চিকিৎসা ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটি চিকিৎসক,
রোগী এবং স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীদের জন্য অনেক সুবিধা প্রদান করছে।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূরবর্তী স্থান থেকে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়, যা
জরুরী অবস্থার সমাধানে সহায়ক। আজকাল হাসপাতালে এত ভিড় থাকে যে ডাক্তারের
অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া প্রায় মুশকিল হয়ে পড়ে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে
চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে
কম্পিউটারে বা ল্যাপটপে রোগীর মেডিকেল রেকর্ড সংরক্ষণ করে রাখা যায়।
এআই
প্রযুক্তি রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য
করে। ইন্টারনেট আমাদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেক সহায়ক।কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার অপরিসীম। ইন্টারনেটের মাধ্যমে চাকরি
খোঁজা এখন খুবই সহজ। অনেক কোম্পানি এখন অনলাইন ইন্টারভিউ নেয়, যা সময় ও অর্থ
সাশ্রয় করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করা যায়, যেখান থেকে ভালো
পরিমাণ আয় করা সম্ভব।
অনেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস করিয়ে টাকা ইনকাম
করে। অফিসের ডেটাবেজ কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে রাখা যায়। অনলাইন চ্যাট ইমেইল এবং
সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গ্রাহককে সেবা প্রদান করা যায়। অনলাইনে পণ্য
ও পরিষেবার বিপণন ও প্রচার
করা সহজ হয় যা বাজার সম্প্রসারণের সাহায্য করে। এভাবে, ইন্টারনেট কর্মসংস্থানের
ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।
কোন স্থানের দিকনির্দেশনা পেতে ইন্টারনেট
ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই কোন স্থানের দিকনির্দেশনা পেতে
পারেন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন স্থানের দিক নির্দেশনা পেতে গুগল ম্যাপ
ব্যবহার করা সবচেয়ে সহজ ও প্রচলিত মাধ্যম। আপনি আপনার গন্তব্য লিখে সার্চ করলে
অ্যাপটি আপনাকে রাস্তা, দূরত্ব এবং সময়সহ দিকনির্দেশনা দেবে। গুগল ম্যাপ আপনাকে সঠিক দিক নির্দেশনা দেখাতে যাতে আপনি সহজে
আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
ইন্টারনেট আসক্তি ও অতিরিক্ত ব্যবহারের কুফল
একটি মুদ্রা যেমন দুইপিট বিদ্যমান তেমন ইন্টারনেট দুনিয়ার কিছু অপকারিতা আমাদের
চোখে পড়ে। অনেকেই শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। অনেক
ক্ষেত্রেই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরা ইন্টারনেট মাধ্যমে আসক্ত হয়ে যায়। বিশেষ
করে শিশুদের জন্য এটি ভয়াবহ। ইন্টারনেট আসক্তি একটি শিশুর মানসিক বিকাশে ব্যাহত
ঘটাই। ইন্টারনেট আসক্তির ফলে একজন শিশু সামাজিকতা, নৈতিকতা, সহমর্মিতা বোধ
শিখতে পারে না।
সর্বোপরি ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জগত মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে এই সুন্দর পৃথিবী থেকে। ভার্চুয়ালিটির নেশায় পড়ে মানুষ এই সুন্দর পৃথিবী কে উপভোগ করতে না পারার মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সম্মুখীন হয়।ইন্টারনেট অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে শারীরিক সমস্যা হয় যেমন চোখের সমস্যা, ব্যাক
পেইন, হাতের ব্যথা ইত্যাদি। এছাড়াও ডিপ্রেশন, একাকীত্ব ইত্যাদি মানসিক সমস্যার
সম্মুখীন হতে হয়।
অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার পরিবারদের সাথে
সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে রাখে। এছাড়াও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে অতিরিক্ত খরচ হয় যা
আর্থিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। অতিরিক্ত ইন্টারনেট আসক্তি পড়াশোনায় মনোযোগ
দিতে বাধা সৃষ্টি করে। মানুষ মিথ্যা জগতের লাইক কমেন্ট এর জন্য সত্যিকার জগতের
বন্ধুত্ব ভালোবাসা অগ্রাহ্য করে চলেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের
অসুস্থ কন্টেন্ট মানুষের সুস্থ জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।
ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা হুমকির মুখে
ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা আজ হুমকির মুখে এটা ইন্টারনেটের একটা গুরুত্বপূর্ণ
উদ্বেগের বিষয়। অনলাইনে তথ্য আদান-প্রদান করার সাথে সাথে আমাদের তথ্যের
নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ার ও সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা যখন কোন তথ্য শেয়ার করি
তখন হ্যাকার বা সাইবার অপরাধীরা তা হ্যাক করতে পারে। আমরা আমাদের
ব্যক্তিগত তথ্য ছবি অবস্থানের বিবরণ শেয়ার করি যা অন্যদের দ্বারা অপব্যবহারের
শিকার হতে পারে। এই সব কারণে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য
সতর্ক থাকতে হবে।
চোখের সমস্যা ও মানসিক চাপ
ইন্টারনেট ব্যবহারে চোখের সমস্যা একটি সাধারণ সমস্যা। ইন্টারনেটের স্ক্রিন থেকে
নির্গত নীল আলো চোখের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে
আমাদের চোখে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়। অনেক সময় চোখ প্রচুর ব্যথা করে, চোখের
শুষ্কতা হতে পারে। অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের দৃষ্টি শক্তি ঝাপসা হতে পারে,
চোখে লাল ভাব হতে পারে।
তাই আমাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় নিয়মিত বিরতি
নেওয়া উচিত।প্রয়োজনে কম্পিউটার বা ফোনের স্কিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখা উচিত।ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ হতে পারে। ইন্টারনেটের
অতিরিক্ত ব্যবহারে ডিপ্রেশন হতে পারে, অ্যানজাইটি হতে পারে, স্ট্রেস হতে পারে।
ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহারে একাকীত্ব বোধ হতে পারে।
কাজের জন্য ইন্টারনেট
ব্যবহারের ফলে কাজের চাপ বাড়তে পারে। অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের ফলে মানুষ
সামাজিক সম্পর্ক থেকে দূরে চলে যেতে পারে এবং একাকীত্ব অনুভব করতে পারে। এসব
মানসিক চাপগুলো এড়াতে ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় নিয়মিত বিরতি নেওয়া, সোশ্যাল
মিডিয়ার ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত।
আরও পড়ুনঃ কমলার খোসা গুড়া করার উপায়
শেষকথাঃ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুফল ও কুফল
ইন্টারনেট আমাদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইন্টারনেট আমাদের জিবনে তথ্য, বিনোদন এবং যোগাযোগের এক অনন্য ব্যবস্থা। ইন্টারনেট আধুনিক সভ্যতার এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। আমরা বিভিন্ন তথ্য ও জ্ঞান
অর্জন, দ্রুত যোগাযোগ, অনলাইন শিক্ষাগ্রহণ, চিকিৎসা, বিনোদন,ব্যবসা ইত্যাদি কাজে
ইন্টারনেট ব্যবহার করি।
এটি আমাদের বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করছে, কিন্তু এর কিছু কুফলও রয়েছে। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহারে চোখের সমস্যা, মানসিক চাপ,
সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, পড়াশোনার অবনতি ইত্যাদি সমস্যা সম্মুখীন হতে হয়। তাই
ইন্টারনেটের সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারই আমাদের জীবনকে সুন্দর রাখতে পারে।



ঐশী; আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url