কমলার খোসা গুড়া করার উপায়

কমলার খোসা, যা প্রায়ই ফেলে দেওয়া হয়, তার অসাধারণ কিছু গুণ রয়েছে। এই খোসা ফেলে না দিয়ে, যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে এটি আমাদের ত্বক এবং স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী হতে পারে।

কমলার-খোসা-গুড়া-করার-উপায়

কমলার খোসা গুঁড়ো করার মাধ্যমে আমরা এটির পুষ্টিগুণকে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করতে পারি এবং এর উপকারিতা পেতে পারি। আসুন, জেনে নেওয়া যাক কীভাবে কমলার খোসা গুঁড়ো করা যায়।

পেজ সুচিপত্রঃ কমলার খোসা গুড়া করার উপায়

কমলার খোসা গুড়া করার উপায়

কমলার খোসা গুঁড়ো করা একটি সহজ প্রক্রিয়া, যা বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই গুঁড়ো তৈরি করার মাধ্যমে, আমরা কমলার খোসার পুষ্টিগুণকে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করতে পারি এবং এর উপকারিতা পেতে পারি।কমলালেবুর খোসার গুঁড়ো তৈরি করা খুবই সহজ!
  1. প্রথমে, কমলালেবু খাওয়ার পর খোসাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
  2. খোসাগুলো ছোট ছোট টুকরা করে কেটে নিন, যাতে সহজে শুকাতে পারে।
  3. এরপর, এই টুকরাগুলো সরাসরি সূর্যের আলোতে অথবা ওভেনে রাখুন।
  4. সূর্যের আলোতে শুকালে ২-৩ দিন সময় লাগতে পারে, আর ওভেনে কম সময়ে।
  5. ওভেনে শুকালে, কম তাপে (প্রায় ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রাখুন এবং মাঝে মাঝে নেড়ে দিন।
  6. খোসাগুলো ভালোভাবে শুকিয়ে গেলে, তা মিক্সারে নিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন।
  7. ব্লেন্ড করার পর, মিহি গুঁড়ো তৈরি হবে।
  8. এই গুঁড়ো একটি এয়ারটাইট পাত্রে সংরক্ষণ করুন।

কমলার খোসা সংগ্রহ ও পরিষ্কার করার সঠিক পদ্ধতি

প্রথমত, কমলালেবুর খোসা সংগ্রহের জন্য ভালো মানের ফল নির্বাচন করা জরুরি। কীটনাশকমুক্ত এবং তাজা কমলালেবু বেছে নিন।খাওয়ার পরে খোসাগুলো ভালোভাবে সংরক্ষণ করুন। খোসা সংগ্রহের পর, সেগুলোকে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। খোসার বাইরের অংশে ময়লা, ধুলো এবং অন্যান্য জীবাণু থাকতে পারে। তাই, প্রথমে খোসাগুলোকে হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে নিন। এরপর একটি নরম ব্রাশ বা কাপড় ব্যবহার করে আলতোভাবে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করুন।

দ্বিতীয়ত, পরিষ্কার করার পরে, খোসাগুলোকে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। এটি গুঁড়ো করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। খোসা শুকানোর জন্য দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে: প্রাকৃতিক উপায়ে এবং ওভেনে। প্রাকৃতিক উপায়ে শুকাতে চাইলে, খোসাগুলোকে সরাসরি সূর্যের আলোতে কয়েক দিন শুকাতে দিন।ওভেনে শুকাতে চাইলে, কম তাপমাত্রায় (প্রায় ৫০-৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) খোসাগুলো বেক করুন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিন, যাতে সব পাশ ভালোভাবে শুকিয়ে যায়।

পরিশেষে, খোসাগুলো সম্পূর্ণরূপে শুকিয়ে গেলে, সেগুলোকে গুঁড়ো করার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। শুকনো খোসাগুলো ব্লেন্ডার বা গ্রাইন্ডারে নিয়ে নিন। ব্লেন্ড করার সময়, অল্প অল্প করে ব্লেন্ড করুন এবং মসৃণ গুঁড়ো তৈরি করুন। অতিরিক্ত গরম হওয়া এড়াতে, মাঝে মাঝে বিরতি দিন। গুঁড়ো হয়ে গেলে, একটি এয়ারটাইট পাত্রে সংরক্ষণ করুন। এটি রান্নার কাজে, ফেসপ্যাক তৈরি করতে অথবা সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

কমলার খোসা শুকানোর বিভিন্ন উপায়

বাতাসে শুকানোঃ খোসাগুলো ছোট ছোট করে কেটে নিন এবং একটি পরিষ্কার কাপড়ে ছড়িয়ে দিন। এরপর, শুকনো, বায়ু চলাচল করে এমন স্থানে কাপড়টি রেখে দিন। কয়েক দিন পর খোসা শুকিয়ে যাবে।

রোদে শুকানোঃ রোদে শুকাতে চাইলে, খোসাগুলোকে সরাসরি সূর্যের আলোতে কয়েক দিন শুকাতে দিন। খেয়াল রাখবেন, খোসাগুলো যেন ভালোভাবে শুকাতে পারে এবং কোনো আর্দ্রতা না থাকে।
 
ওভেনে শুকানোঃ ওভেন সামান্য গরম করে (প্রায় ১৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) খোসাগুলো বেকিং শীটে ছড়িয়ে দিন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিন এবং প্রায় ২-৩ ঘণ্টা পর খোসা শুকিয়ে গেলে নামিয়ে নিন।

ডিহাইড্রেটরে শুকানোঃ ডিহাইড্রেটরের ট্রেতে খোসাগুলো সাজিয়ে দিন এবং ডিহাইড্রেশন সেটিংস ব্যবহার করুন। সাধারণত, ১২-১৮ ঘণ্টা সময় লাগে।

ওভেন বা মাইক্রোওয়েভে শুকানোর নিয়ম

ওভেনে শুকাতে চাইলে, কমলার খোসা পাতলা করে কেটে নিন।একটি বেকিং ট্রের ওপর খোসাগুলো এক স্তরে ছড়িয়ে দিন।কম তাপমাত্রায় (প্রায় ৫০-৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)  ১–২ ঘণ্টা খোসাগুলো বেক করুন। মাঝে মাঝে ট্রে বের করে খোসা নেড়ে দিন যাতে সমানভাবে শুকায়। খোসা শক্ত ও ভেঙে যাওয়ার মতো হলে বুঝবেন সম্পূর্ণ শুকিয়েছে।
কমলার-খোসা-গুড়া-করার-উপায়
মাইক্রোওয়েভে খুব দ্রুত শুকায়, তাই বার্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। মাইক্রোওয়েভে শুকাতে চাইলে,মাইক্রোওয়েভ-সেফ প্লেট নিন।খোসাগুলো প্লেটে ছড়িয়ে দিন (এক স্তরে)।৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিটের জন্য হাই পাওয়ারে দিন। এরপর চেক করে আরও ৩০ সেকেন্ডের জন্য চালান যতক্ষণ না খোসা শুকিয়ে ভঙ্গুর হয়।বেশি গাঢ় হয়ে যেতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিন।

রোদে শুকানো ও এর উপযুক্ত সময়

কমলার খোসাগুলো পরিষ্কার করে পাতলা করে কেটে নাও। একটি পরিষ্কার কাপড় বা ট্রে-তে খোসাগুলো ছড়িয়ে দাও। খোসাগুলোর উপর সরাসরি রোদ লাগে এমন জায়গায় রাখো। খেয়াল রাখতে হবে যেন বাতাস চলাচল করতে পারে। শুকানোর জন্য, পরিষ্কার আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত রোদ থাকা দরকার। সাধারণত, গরম এবং শুষ্ক আবহাওয়া সবচেয়ে ভালো। সাধারণত ২-৩ দিন সময় লাগে। মাঝে মাঝে উল্টে দিতে পারেন, যাতে সব দিক ভালোভাবে শুকিয়ে যায়।

শুকনো কমলার খোসা গুঁড়ো করার সহজ পদ্ধতি ও টিপস

শুকনো কমলার খোসা গুঁড়ো করার সহজ পদ্ধতি ও টিপসঃ
  • শুকনো খোসাগুলো একটি ব্লেন্ডার বা ফুড প্রসেসরে নিন।
  • কিছুক্ষণ ব্লেন্ড করো, যতক্ষণ না মিহি গুঁড়ো হয়ে যায়।
  • যদি হাতে সময় থাকে, তাহলে খোসাগুলো হালকা ভেজে নিতে পারো, এতে স্বাদ আরও বাড়বে।
  • গুঁড়ো করার পর একটি এয়ারটাইট পাত্রে সংরক্ষণ করুন।

কমলার খোসা হাতে গুঁড়ো করার কৌশল

কমলার খোসা হাতে গুঁড়ো করার কৌশলঃ
প্রথমে খোসাগুলো ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। একটি পরিষ্কার প্লেটে খোসাগুলো রাখুন। একটি ভারী চামচ বা হাতুড়ি দিয়ে হালকাভাবে চাপ দিয়ে গুঁড়ো করুন। ছোট ছোট টুকরা করে ভেঙে নিন। পুরোপুরি গুঁড়ো করার জন্য, একটি মর্টার ও পেস্টল ব্যবহার করতে পারেন।

গুঁড়ো সংরক্ষণের সঠিক উপায় ও উপকারিতা

গুঁড়ো করার আগে খোসা ১০০% শুকনো হতে হবে। সামান্য আর্দ্রতাও থাকলে ছত্রাক (ফাঙ্গাস) ধরে যেতে পারে। গুঁড়ো সংরক্ষণের জন্য কাঁচের জার সবচেয়ে ভালো। প্লাস্টিক জারও ব্যবহার করা যায়, তবে গন্ধ ধরে রাখার ক্ষেত্রে কাঁচ ভালো কাজ করে।সরাসরি রোদে বা গরম জায়গায় রাখবেন না।ছোট সিলিকা জেল প্যাকেট দিলে গুঁড়ো আরও দীর্ঘদিন ভালো থাকে।ভেজা চামচ দিলে গুঁড়োতে দলা হবে বা নষ্ট হতে পারে।সঠিকভাবে রাখলে ৬-১২ মাস ভালো থাকে।

কমলার খোসার ভিটামিন C ত্বকের কালচে দাগ ও পিগমেন্টেশন কমাতে সাহায্য করে।নিয়মিত ব্যবহার করলে স্কিন গ্লো বাড়ে। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে, ফলে স্কিন কম তেলতেলে থাকে।এতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ ব্রণ সৃষ্টিকারী জীবাণু কমাতে সহায়তা করে।প্রাকৃতিক ভাবে মৃত কোষ দূর করে, ত্বক মসৃণ করে।

মাথার স্ক্যাল্পের তেল,খুশকি ও ময়লা পরিষ্কার করে।চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আনে,মাথার দুর্গন্ধ কমায়।খাবার বা চায়ে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করলে গ্যাস/ফুলাভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।রুম ফ্রেশনার বা পোশাকের সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।ভিনেগারের সাথে মিশিয়ে প্রাকৃতিক ক্লিনার তৈরি করা যায়। এটি দিয়ে ত্বক ফর্সা করার ফেসপ্যাক ও বানানো যাই

ত্বক ও  চুলের যত্নে কমলা খোসার উপকারিতা

ত্বক ও চুলের যত্নে কমলার খোসার ব্যবহার খুবই উপকারী। কমলার খোসায় ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আর অন্যান্য পুষ্টি উপাদান আছে যা ত্বক আর চুলের জন্য খুবই ভালো।তবে ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নিবেন, কারণ কারো কারো কমলার খোসায় অ্যালার্জি থাকতে পারে। নিয়মিত কমলার খোসা ব্যবহারে ত্বক আর চুলের উন্নতি দেখতে পাবেন।

ত্বকের যত্নে কমলার খোসার ব্যবহারঃ কমলার খোসা বেটে ত্বকে লাপটে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে আর ত্বক দেখায় আরও সুন্দর।কমলার খোসার রস আর মধু মিশিয়ে ফেস মাস্ক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বকের ময়লা পরিষ্কার হয় আর ত্বক থাকে মসৃণ।কমলার খোসা সিদ্ধ পানি দিয়ে ফেস ওয়াশ করলেও ত্বকের উন্নতি হয়।
কমলার-খোসা-গুড়া-করার-উপায়
চুলের যত্নে কমলার খোসার ব্যবহারঃ কমলার খোসা বেটে চুলে লাপটে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ে আর চুল পড়া কমে। কমলার খোসার রস আর নারকেল তেল মিশিয়ে চুলে ম্যাসাজ করুন। এতে চুলের গোড়া শক্ত হয় আর চুলের বৃদ্ধি হয়। কমলার খোসা সিদ্ধ পানি দিয়ে চুল ধুলেও চুলের উন্নতি হয়।

কমলা খোসার গুঁড়ো দিয়ে দাঁত সাদা করার কৌশল

কমলার খোসার গুড়া দিয়ে দাঁত সাদা করার কৌশল খুবই সহজ আর কার্যকর। কমলার খোসায় ভিটামিন সি আর সাইট্রিক অ্যাসিড আছে যা দাঁতের দাগ দূর করতে সাহায্য করে আর দাঁতকে সাদা করে।কমলার খোসা শুকিয়ে গুড়া করে নিন।এই গুড়া দিয়ে দাঁত মাজুন ১-২ মিনিট।পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।সপ্তাহে ২-৩ বার এই প্রক্রিয়া করুন। ফলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়, দাঁতের মাড়ি শক্ত করে।

কমলা খোসা গুঁড়ো আপনার রান্নাঘরের সঙ্গী

কমলার খোসার গুড়া আপনার রান্নাঘরের সঙ্গি। এর অনেক ব্যবহার আছে যা আপনার রান্নাকে আরও সুস্বাদু আর স্বাস্থ্যকর করে তুলবে। কমলার খোসার গুড়া মাংসের ম্যরিনেডে ব্যবহার করলে মাংস নরম আর সুস্বাদু হয়।কমলার খোসার গুড়া চাটনিতে ব্যবহার করলে চাটনি আরও সুস্বাদু হয়।কমলার খোসার গুড়া কেক, কুকিজ আর অন্যান্য বেকড ফাইন্ডে ব্যবহার করা যায়।এটি স্বাস্থ্যকর খাবারে পুষ্টি উপাদান যোগ করে।কমলার খোসার গুড়া ব্যবহারে আপনার রান্না হবে আরও সুস্বাদু আর স্বাস্থ্যকর।

শেষকথাঃ কমলার খোসা গুড়া করার উপায়

কমলার খোসা গুড়া করার জন্য প্রথমে খোসাগুলো ধুয়ে ছোট টুকরো করে কেটে নিন। তারপর রোদে বা ওভেনে শুকিয়ে গুড়া করে এয়ারটাইট কন্টেইনারে সংরক্ষণ করুন। এভাবে সংরক্ষণ করে ব্যবহার করতে পারেন  যা আমাদের অনেক কাজে লাগে। আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন এবং ভাল লেগে থাকলে পরিচিতদের শেয়ার করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ঐশী; আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url